পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা-বাবু বাজার সড়ক থেকে সুফি সাহেব হুজুর বাড়িগামী সংযোগ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে সেখানে একটি স্টিলের ব্রিজ স্থাপন করা হলেও সেটি এখন ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। এতে কচুবাড়িয়া, ভাইজোড়া ও খেঁতাছিড়াসহ বলেশ্বর নদের তীরবর্তী মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্টিল ব্রিজটি ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়ার পেছনে ইটবোঝাই পিকআপ চলাচলকেই দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু শিক্ষার্থীদের এ ব্রিজটি পার হতে হয়।
স্থানীয়রা জানায়, এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটিই সাপলেজা নেছারিয়া আলিম মাদরাসায় যাতায়াতের একমাত্র পথ। পাশাপাশি সাপলেজা মডেল হাই স্কুল, লায়লা মালেকিয়া দাখিল মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই ব্রিজ পার হতে হয়।
অভিভাবকদের দাবি, বৃষ্টির সময় কিংবা রাতে শিক্ষার্থীদের ব্রিজ পার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে ভয় পায়। ফলে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে। একজন অভিভাবক বলেন, ‘ব্রিজটা এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে যে, বাচ্চাদের পাঠাতে ভয় লাগে। কিন্তু বিকল্প কোনো পথ নেই।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, অতীতে এখানে একটি নতুন স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজ মিয়া ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের কারণে এই এলাকায় নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি।
এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বলি হয়েছেন সাধারণ মানুষ। বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এই ব্রিজে ভারী গাড়ি চলার কথা নয়। কিন্তু ইটবোঝাই পিকআপ দিনের পর দিন চলাচল করায় এখন ব্রিজটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহাবুব হোসেন বলেন, স্টিল ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই মেরামত কাজ শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে।
তবে এলাকাবাসী মনে করছেন, শুধু আশ্বাসে সমস্যার সমাধান হবে না। দ্রুত স্থায়ী ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ এবং ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করা হলে বড় দুর্ঘটনা অনিবার্য।
তারা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কার, ইটভাটার ভারী যান চলাচল বন্ধ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী জিয়ারুল ইসলাম জানান, এখানে একটি কালভার্ট স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানে হয়েছ। প্রস্তাব পাশ হয়ে আসলে বাস্তবায়ন করা হবে।