image
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) : বন্য হাতির নষ্ট করা ফসলের খেত -সংবাদ

বোয়ালখালীতে বন্যহাতির তাণ্ডবে কৃষকের বাড়া ভাতে ছাই

প্রতিনিধি, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বন্যহাতির তাণ্ডবে কৃষকের প্রায় ৩ একর জমির সবজি ক্ষেত নস্ট হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতের আঁধারে উপজেলার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জৈষ্টপুরা গ্রামের পূর্ব বিল ও ব্রাহ্মণ বিলে এ তাণ্ডব চালায় বন্যহাতির দল।

এ সময় হাতির দলটি কৃষক বিষু চক্রবর্তীর ৩৬ শতক, ঝুন্টু বড়ুয়ার ১ একর, আলাউদ্দিনের ৪০ শতক, কুঞ্জ চৌধুরীর ১৮ শতক, উত্তম চৌধুরীর ১৬ শতক আলু ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়। এ ছাড়া বিনোদ চৌধুরীর ৪০ শতক বেগুন ও ১০ শতক জমির লাউ ক্ষেত দুমড়ে মুচড়ে দেয়।

এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ওই কৃষকদের।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ঝুন্টু বড়ুয়া বলেন, ধারদেনা করে গত অক্টোবরে ১ কানি জমিতে আলু লাগিয়েছিলেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। আগামী সপ্তাহে আলু তোলা হত। এতে ২০-২২ হাজার টাকা বিক্রি করা যেত। এমন সময় ধুলিস্যাৎ করে দিল যেন বাড়া ভাতে ছাই পড়লো। একই কথা বলছেন ভুক্তভোগী কৃষক বিষু চক্রবর্তী, কুঞ্জ চৌধুরী উত্তম চৌধুরী, আলাউদ্দিন ও বিনোদ চৌধুরীসহ অনেকেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ে খাদ্যসংকটের কারণে খাবারের খোঁজে পাহাড় থেকে প্রায়ই লোকালয়ে নেমে আসে বন্যহাতিরা। এ সময় তারা ফসলি জমি-বাগান এমনকি বাড়িঘরেও তাণ্ডব চালায় বলে জানান স্থানীয়রা।

কৃষক মো. ইছাক জানান, হাতির ভয়ে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। প্রতিদিন রাত হলেই বন্যহাতির দল বাগান ও সবজি খেতে ঢুকে পড়ে। হাতিগুলো যেদিক দিয়ে যায়, তাদের পায়ের চাপে সবকিছু তছনছ হয়ে যায়।

বন বিভাগের ভান্ডালজুড়ি বিট কর্মকর্তা ঝুন্টু দে বলেন, বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা নিকটস্থ বন বিভাগের আওতাধিন রেঞ্জ কর্মকর্তার বরাবরে আবেদন করলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। এ ছাড়া বন্যহাতির আবাসস্থলে মানুষ বসতি গড়ে তোলে হাতির বাসস্থান ও খাদ্যের জায়গা গুলো নস্ট হয়েছে। যার কারণে পাহাড়ে খাদ্য সংকট তৈরি হওয়ায় বন্যহাতি লোকালয় চলে আসছে। এদের চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি না করে সর্তক থাকার জন্য বলা হয়েছে।

হাতিকে উত্যক্ত না করে নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে হাতি তাড়ানোর ব্যবস্থা করার কথা জানিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো শাহানুর ইসলাম বলেন, লোকালয়ে হাতি প্রবেশ করলে মশাল জ্বালিয়ে ও চিৎকার করে সেগুলোকে জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে হবে। ফসল রক্ষায় কৃষকদের পাহারা দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, হাতির মাধ্যমে কোনো কৃষকের ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি আমার নজরে আসলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» অনিয়ম-দুর্নীতির, ঘুষের কারিগর সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকৃত কৃষক বীজ পায় না

সম্প্রতি