মৃত ব্যক্তিও সরকারি প্রণোদনা নেয়
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিয়ম দুর্নীতি, সেচ্ছারিতা ক্ষমতার অপব্যবহারে প্রকৃত কৃষক সরকারি বীজ (প্রণোদনা) না পেলেও মৃত ব্যক্তি প্রণোদনা পায়। পাশাপাশি বরাদ্দকৃত গম বীজ-সার কৃষকদের মাঝে কম বিতরণ করে, অবশিষ্ট (বীজসার) গোপনে বিক্রী করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, গত কয়েক দিন আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরকার কর্তৃক কৃষি প্রণোদনা হিসাবে বিভিন্ন ধরনের কৃষি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে ১৮শ জন কৃষকেরে নামে ২০ কেজি গম বীজ ২০ কেজি সার (উন্নতমানের বীজ) বরাদ্দ ছিল, যা প্রকৃত কৃষদের মাঝে বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু কতজন কৃষক এসব প্রণোদনার সার-বীজ পেয়েছে, বলা মুশকিল। কৃষি অফিসার যাদের মাধ্যেই এই বীজ বিতরণ করেছে, তাদের অনেকেই কৃষক নয়, এমন কী বসতঘরের জায়টুকু ছাড়া উঠান নেই সে কৃষাণী গম বীজ পায়। অথচ যাদের জমি আছে চাষাবাদ করে তারা এসব সরকারি প্রণোদনার সুযোগ পায় না।
প্রসঙ্গত, ভাষানচরের রিনা আক্তার তার নিজস্ব এক ছটাক জমি নেই, তাকে কৃষাণী হিসেবে দেয়া হয় গম-বীজ; যা কী অনিয়মের ইঙ্গিত। বিষ্ণুপুরের নির্বাচিত মহিলা মেম্বর কানন আক্তার মৃত হয়েছে অনেক আগে, তার নামেও বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে, পারিবারিক পুষ্টিবাগানের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ। তাহলে বুঝা যাচ্ছে মৃত ব্যক্তিও সবজির বাগান করে থাকে এতে অফিসের অফিসার, মাঠকর্মী কী দায়িত্ব পালন করে। চরমানাইর, চরনাছিরপুর, নারিকেল বাড়িয়ায় এই ৩ ইউনিয়নে ২০০ জন কৃষকে গমের বীজ দেয়া হয়েছে অফিস জানান, কিন্তু এই ৩ ইউনিয়নে গড়ে ৩০ জন প্রকৃত কৃষক বীজ-সার পায়নি বলেই অনুমেয়। এসব এলাকায় যেসব কৃষক গমের আবাদ করেছে, তারা বেশিরভাগ কৃষক স্থানীয় বাজার থেকে বীজ সংগ্রহ করে আবাদ করেছে। এ ছাড়া একই ব্যক্তির নামে একাধিক বার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় ডিলারদের কাছ সরাসরি সার নেয়ার জন্যে টোকেন দিয়েছিলেন অফিস, এতেই সুযোগ হয়েছিল কৃষকদের, অনেক নামের কৃষক সার তুলে নাই, টাকা তুলে নিয়েছে। শুধু ভাউচার জমা দিয়েই টাকা তুলে নিতে পারছে অফিস। আরও জানা যায়, গত কয়েক দিন আগে প্রণোদনায় প্রায় দেড়শজন কৃষককের মাঝে পিয়াজের (বীজ) দেয়া হয়েছিল। সেখানে প্রতিজন কৃষককে ১৬০ কেজি বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও ৩০ থেকে ৩৫ কেজি পর্যন্ত কম দেয়া হয়েছে, এমন কী নাম থাকার পরও একাধিক কৃষক বরাদ্দ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানান, না পাওয়া কৃষকরা। বরাদ্দ কম দেয়া ২৫/৩০ কেজি কম দিয়ে নিজেই আত্যসাৎ করার খবর পাওয়া গেছে।
অপরদিকে উপজেলায় সার বিক্রয় করা লাইসেন্স ধারি ও অনুমোদন নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান/দোকানদার সার বিক্রীকরে তাদের প্রতিটা ডিলারের কাছ থেকে, লাইসেন্স অনুমোদন হাল নাগাদ করে দেয়া, বরাদ্দ বাড়িয়ে দেয়া, অনুমোদনহীন ডিরার সার বিক্রীতে সহযোগিতা করা, এক জায়গার সার অন্য জায়গায় বিক্রী করতে সহযোগিতা করা এবং পাশাপাশি তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে, মামলা দেওয়ার ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে গোপনে প্রচুর অর্থ পকেটস্থ করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ভাষানচরের একজন কৃষক (নাম প্রকাশনা করার শর্তে) বলেন, আমরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে খেতে পসল ফলাই, আমরা কখনও সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধা পাই, কারণ গোপনে ঘুষ দিতে পারি না, তাই আমাদের কোনো প্রণোদনা পাই না। যাদের কোন জমি, ক্ষেত নাই, তাদেরই দেয়া হয় প্রণোদনা। কেননা কে জমি আবাদ করে তার খবর জানার জন্য যেসব উপসহকারী যেসব মাঠকর্মী আছেন তারা অনেকেই নিজের কর্মের এলাকা চিনে না। উপজেলা সদরে বসেই তালিকা করে থাকে, ফলে প্রকৃত কৃষককে চিনে না। এতে প্রণোদনা থেকে বাদ যায় প্রকৃত কৃষক, আর সুযোগ পায় অকৃষক।
চরনাছিরপুর ইউনিয়নের কৃষক মোশা মিয়া, ইউছুব আলি, আক্ষেপ করে জানান, এই ইউনিয়নে কোন উপসহকারী (মাঠপরিদর্শক) আছে কিনা, আমাদের জানা নেই। কখনো তাদের কাউকে দেখি নাই, মাঠে মৌসুমের সময় কোন জমিতে কী ফসল বোনা বা কী সার প্রয়োগ করতে হবে, জানার কোন ব্যাবস্থা নাই, বাধ্য হয়ে, সারের ডিলার-কীটনাশকের দোকানদারের কাছ থেকে পরার্মশ নিতে হয়। কৃষি অফিসের কাউকেই মাঠে দেখি নাই। এমনকি বলা যায়, কোন মাঠকর্মীই তাদের কর্মস্থল (কর্মের দায়িত্বে থাকা এলাকা) চিনে না। তাহলে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অবস্থা অনুমান করা যায়।
দেয়ারা নারিকেল বাড়িয়া ইউপির সদস্য ফজলু মিয়া বলেন, এই ইউনিয়নে কোন মাঠকর্মী (উপসহকারী) নামে কোন লোক নিয়োগ আছে কী না, আমাদের জানা নেই, তবে শুনেছি অজিত মন্ডলনামে একজন মাঠকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কখনও এলাকায় আসেনি, সে কারণে তাকে কেউ চিনে না, কখনো তার দেখা পাওয়া যায়নি। যে কারণে জমি ও ফসলের মাঠে বা শশ্য বোনার ব্যাপারে পরামর্শে পাওয়া যায় না। ফলে আমাদের ফসলের ব্যাপারে দরকার হলে, এলাকার আরেকজন কৃষককের কাছ থেকে ছলা-পরামর্শ করে থাকি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিটুল রায় এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি কোনো অনিয়ম করিনি। আমি কোনো অনিয়মের খবর জানতে পারলে, তার সমাধান করার চেষ্টা করে থাকি। আমি একজন ডিলারের কাছে ব্যবসায়ীর কাছে সার-বীজ নিয়ে কী বলি বা কী করি এটা আমার এখতিায়ার, কাউকে বলার জন্যে নয় কৃষক কোথাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কিনা সেটা দেখেন কী না তিনি বলেন, সেটা আমার ও অফিসের বিষয়। এটা আপনার জানার নয়।
এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, কথা বলা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে যথাযত কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে উপজেলার সচেতন মহল।
অর্থ-বাণিজ্য: ২য় প্রান্তিক শেষে ওয়ালটনের মুনাফা বেড়ে ৩৬৩ কোটি টাকা
অর্থ-বাণিজ্য: বিদেশি ঋণ শোধ ৬ মাসেই ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো
অর্থ-বাণিজ্য: ই-ভ্যাট সেবা সাময়িক বন্ধ, যুক্ত হচ্ছে নতুন ফিচার
অর্থ-বাণিজ্য: রিটার্ন জমার সময় বাড়লো আরও এক মাস
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: নির্বাচনে এমএফএস এর অপব্যবহার রোধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বিকাশের সমন্বয় কর্মশালা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ এর নলেজ পার্টনার ইউআইটিএস
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: এয়ারটেলের গেমিং ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এওয়ান ইস্পোর্টস