সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড শেখনগরের পাহাড়ি এলাকায় বলসুন্দরী, আপেল ও কাশ্মীরি কুল চাষে নতুন দিগন্ত উম্মোচন করছেন চাষিরা। এলাকার পাহাড়ি ভূমিতে সমন্বিত মিশ্র ফলের বাগানগুলোতে এখন বাড়ছে সবুজের সমারোহ। গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে বলসুন্দরী ও কাশ্মীরিসহ বিভিন্ন জাতের মিষ্টি আপেল কুল। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতের কুলের পাশাপাশি আম, কাঁঠাল, বেল, গাব, পেয়ারার বাগানসহ ঢালু-সমতল ভূমিতে বেগুন, টমেটো, ফুলকপি ও মুলাসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
চলতি মৌসুমে আপেল কুলের অধিক ফলন ও বাজারে ভালো মুনাফা লাভের প্রত্যাশা করছেন তারা। সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড শেখনগরের বাসিন্দা মো. ইমাম হোসেন জানান, আমার বাগানে আপেল কুল ছাড়াও আম, গাব ও কাঁঠালসহ অন্যান্য ফলের চাষ করেছি। তবে আপেল কুল ও কাশ্মীরি কুলের চাহিদা বাজারে অনেকটা বেশি থাকায় লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছি। তিনি আরও বলেন, এখন কুলের ভরা মৌসুম চলছে। সীতাকুণ্ড বাজারে কুলের বেশ চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাইকারি দামেও বিক্রির সুযোগ থাকায় লাভের সম্ভাবনাও বেড়েছে। একই এলাকার বাসিন্দা পন্থিছিলা ইসলামীয়া দাখিল বিজ্ঞান মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক মো. আজিম উদ্দিন বলেন, শেখনগরের পাহাড়ি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ বেশ লাভবান হয়ে ওঠেছে। এখানকার মাটি কুল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উন্নত জাতের কুল গাছ আকারে ছোট হলেও খুব ভালো ফলন দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কুলের ভারে গাছের ডাল-পালা নুইয়ে পড়ায় ফল সংগ্রহ করতেও চাষিদের তেমন একটা কষ্ট হচ্ছে না।
এদিকে লাভজনক হওয়ায় কুল চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন এলাকার চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কুলের বাজারমূল্য বেশ সন্তোষজনক। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কুল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। আর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এর মধ্যে বলসুন্দরী ও আপেল কুলের দাম-চাহিদা তুলনামূলক বেশি। চলতি মৌসুমে কুলের ফলন গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি ও বাজারে তুলনামূলক বেশি চাহিদা থাকায় চাষিদের ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। ফলে চাষিরা এখন শুধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নন, বরং বাজারজাতকরণ ও বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েও সক্রিয় রয়েছেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর জানান, শেখনগর ও তৎসংলগ্ন উর্বর পাহাড়ি ভূমিতে আপেল কুলের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি, পেয়ারা, গাব ও আমের ফলনও দেখা যাচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলে মিশ্র ফল ও সবজিক্ষেত আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, উন্নত জাতের ব্যবহার, কৃষি বিভাগের সহায়তা এবং বাজারে চাহিদার কারণে বলসুন্দরী, আপেল কুল ও কাশ্মীরি কুল চাষ আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎসে পরিণত হয়েছে। পরিকল্পিত চাষ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই কুল চাষ ভবিষ্যতে চাষিদের স্বাবলম্বী করে তুলবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, শেখনগর এলাকার মাটি কুলসহ বিভিন্ন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। চলতি মৌসুমে উন্নত জাতের কুল চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হয়েছে। তাতে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা, বাড়ছে কুলচাষে ব্যাপক আগ্রহ।
অর্থ-বাণিজ্য: ২য় প্রান্তিক শেষে ওয়ালটনের মুনাফা বেড়ে ৩৬৩ কোটি টাকা
অর্থ-বাণিজ্য: বিদেশি ঋণ শোধ ৬ মাসেই ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো
অর্থ-বাণিজ্য: ই-ভ্যাট সেবা সাময়িক বন্ধ, যুক্ত হচ্ছে নতুন ফিচার
অর্থ-বাণিজ্য: রিটার্ন জমার সময় বাড়লো আরও এক মাস
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: নির্বাচনে এমএফএস এর অপব্যবহার রোধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বিকাশের সমন্বয় কর্মশালা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ এর নলেজ পার্টনার ইউআইটিএস
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: এয়ারটেলের গেমিং ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এওয়ান ইস্পোর্টস