image

বেকারত্বের জাল ছিঁড়ে গাড়ল খামারে স্বাবলম্বী ওয়াসিম

প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বেকারত্বের হতাশাকে পেছনে ফেলে নিজের মাটিতেই সফলতার গল্প লিখেছেন নস্তি গ্রামের তরুণ মো. ওয়াসিম মন্ডল (২৫)। গরিব কৃষক পরিবারে জন্ম নেয়া ওয়াসিম একসময় পরের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে সংসারের অভাব সামলাতেন। চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে কিছু করার স্বপ্ন থেকেই শুরু করেন ভেড়া ও গাড়ল পালনের পথচলা। আজ তিনি এলাকায় একজন পরিচিত ও সফল খামারি।

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে যখন অনেক তরুণ কাজের অভাবে দিশেহারা, তখন ওয়াসিম নিজ উদ্যোগে উন্নত জাতের গাড়ল এনে গড়ে তুলেছেন একটি সম্ভাবনাময় খামার। বাবা মো. রবিউল মন্ডলের একমাত্র সন্তান ওয়াসিম প্রথমে ভারতের রাজস্থান অঞ্চলের গাড়ল সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে চুয়াডাঙ্গার শিয়ালমারি হাট থেকে পাঁচটি গাড়ল কিনে খামার শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ল সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে খামার বড় করেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ২৪টি ছোট-বড় গাড়ল রয়েছে। খামার থেকেই সরাসরি বিক্রি হচ্ছে গাড়ল ও ভেড়া। প্রকারভেদে এসব গাড়লের দাম ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। পূর্ণবয়স্ক গাড়লের দাম ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা এবং ৩ থেকে ৪ মাস বয়সী বাচ্চার দাম ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা। স্থানীয় লোকজন ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা সরাসরি খামার থেকেই পশু কিনে নিচ্ছেন। বিশেষ করে কোরবানির মৌসুমে চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।

ওয়াসিম জানান, গাড়লের মাংস ভেড়া বা ছাগলের তুলনায় বেশি সুস্বাদু এবং একটি গাড়ল থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত মাংস পাওয়া যায়। কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় এই খাতে তিনি আশাবাদী। তার খামার দেখে এলাকায় অনেক বেকার যুবক ভেড়া ও গাড়ল পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় খামারি মো. সজীব মোল্লা ও আলী হোসেনও এই খাতে যুক্ত হয়েছেন। ওয়াসিমের বাবা মো. রবিউল মন্ডল বলেন, ছেলে পরের পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই আজ এই সাফল্য এসেছে।

মহেশপুর বাজারের পশু চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন, নিয়মিত কৃমিনাশক ও পিপিআর টিকা দিলে ভেড়া ও গাড়ল সহজেই সুস্থ থাকে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকেও বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মো. নুর আলম বলেন, কম খরচে ও কম ঝুঁকিতে গাড়ল পালন একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করলে এই খাতে ভালো সাফল্য পাওয়া সম্ভব।

বর্তমানে ওয়াসিম নিজে, তার স্ত্রী ও বাবা খামারের দেখাশোনা করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিকও কাজ করছে। ঘাস, লতাপাতা, খড় ও ভুসি প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আসন্ন কোরবানির মৌসুমে ভালো লাভের আশায় ভবিষ্যতে দুম্বা পালনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ওয়াসিমের এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের মুখে হাসি ফেরায়নি, মহেশপুরজুড়ে নতুন করে ভেড়া ও গাড়ল খামারের সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে এবং গ্রামের তরুণদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন জাগাচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» অনিয়ম-দুর্নীতির, ঘুষের কারিগর সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকৃত কৃষক বীজ পায় না

সম্প্রতি