শেরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় ইউএনও ও ওসি প্রত্যাহার

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা নিহতের ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম এবং থানার ওসি নাজমুল হাসানকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার, (২৯ জানুয়ারী ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। শেরপুরের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ ও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে অভিহিত করেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধিতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইশতেহার পাঠ ও প্রচারের কথা বলা হলেও সেখানে এর ব্যত্যয় ঘটেছে। জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির কাছ থেকে এ ঘটনার প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে, প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

ইসি সচিব আরও জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে ইউএনও আশরাফুল আলমকে প্রত্যাহার করে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করেছে। তাকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে দায়িত্ব ছাড়তে বলা হয়েছে, অন্যথায় আজ থেকে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

গতকাল বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিত-া হয়, যা পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত রেজাউল ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক ছিলেন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী এ হত্যাকা-ের জন্য বিএনপিকে দায়ী করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি করেছিল। অন্যদিকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল সব চেয়ার দখল করে রেখেছিল এবং কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হয়েছিল। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকার সব দলকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

পোস্টাল ব্যালট, ব্যানার ও পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গ ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব নির্বাচনের অন্যান্য বিষয় নিয়েও কথা বলেন। আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া প্রার্থীদের পোস্টাল ব্যালটে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত থাকবে এরপর আর সুযোগ থাকবে না বলে জানান ইসি সচিব।

তিনি আরও জানান, আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যানারের আয়তন ১০ ফুট বাই ৪ ফুটের মধ্যে হতে হবে। সাধারণ ব্যানার সাদা-কালো হতে হবে, তবে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে রঙিন প্রচারণা চালানো যাবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» অনিয়ম-দুর্নীতির, ঘুষের কারিগর সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকৃত কৃষক বীজ পায় না

সম্প্রতি