সকাল কিংবা সন্ধ্যা চুয়াডাঙ্গা জেলা ও উপজেলা শহরের অলি-গলিতে পা রাখলেই চোখে পড়ে একই দৃশ্য। ছোট ছোট চায়ের দোকানগুলো যেন পরিণত হয়েছে এক একটি অনানুষ্ঠানিক ভোট ক্যাম্পে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চলছে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা, বিশ্লেষণ আর তর্ক-বিতর্ক।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তেজনা ও উৎসবের আমেজ। জেলার গ্রাম থেকে শহর, সবখানেই এখন ভোটের আলোচনা প্রধান আলোচ্য বিষয়।
চুয়াডাঙ্গা- আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন,বিএনপি মনোনীত মো. শরীফুজ্জামান (ধানের শীষ)
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ (দাড়িপাল্লা) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জহুরুল ইসলাম (হাতপাখা)
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে লড়াই করছেন
বিএনপি মনোনীত বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু (ধানের শীষ),জামায়াতে ইসলামী মনোনীত রুহুল আমিন (দাড়িপাল্লা)
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হাসানুজ্জামান (হাতপাখা)
জেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের হাটবাজার, সড়কের মোড়, গ্রামীণ চায়ের দোকান যেখানেই মানুষের আনাগোনা, সেখানেই চলছে ভোট নিয়ে আলোচনা। কে কাকে ভোট দেবেন, কোন প্রার্থী কেমন জনপ্রিয়, অতীতে কার ভূমিকা কেমন ছিল এসব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
৪ টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, এমন কোনো চায়ের দোকান নেই যেখানে ৮-১০ জন লোকের উপস্থিতি নেই। শীতের আমেজে গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ভোটের আলোচনা যেন জমে উঠেছে আরও বেশি। কেউ এক বসাতেই রাত ১০টা পর্যন্ত সময় কাটাচ্ছেন, কেউ আবার এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে রাজনৈতিক আড্ডায় যোগ দিচ্ছেন।
জীবননগর রায়পুর বাজার, হাসাদাহ, মাধবপুর ও বেনীপুর বাজারের চায়ের দোকানগুলোতে এখন অতিরিক্ত ভিড়। দোকানিরা বাড়াচ্ছেন কেটলি ও কাপের সংখ্যা। রায়পুর বাজারের এক চা দোকানি বলেন, নির্বাচনী হাওয়া শুরু হওয়ার পর থেকে চা বিক্রি দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে। সবাই এসে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করে আর একের পর এক চা খায়।
পিয়ারাতলার দোকানি হাসেম আলী জানান, আগে দিনে দুই কেটলি চা বিক্রি হতো, এখন কমপক্ষে ১০ কেটলি বিক্রি হয়। বেনীপুর বাজারের দোকানি মাজেদুর রহমান জানান, ভোটের ভিড় সামলাতে তিনি নতুন করে ৪টি কেটলি ও ১০০টি কাপ কিনেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতি নিয়ে খুব আগ্রহী। এবার সবাই চায় অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট।
যুবক আবিদ আলী বলেন, এবার খেলা জমবে। কেউ ফাকা মাঠে গোল দিতে পারবে না। সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক: ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতিতে রাজি পুতিন, জানালেন ট্রাম্প