শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌপথে চলাচল করা চারটি ফেরির মধ্যে দুটি ফেরি বিকল হয়ে পড়েছে। এতে ঘটে পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে অন্তত চার শতাধিক যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক, যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) অফিস সহকারী আ. মোতালেব হাওলাদার বলেন, বিকল হওয়া ফেরি দুটি মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। তবে চালু হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌপথে মোট চারটি ফেরি চলাচল করে। গত বুধবার দুপুরের পর হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ‘ফেরি কস্তুরি’ ও ‘কলমি লতা’ বিকল হয়ে পড়ে। এতে ফেরির সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসায় যানবাহন পারাপারে তীব্র সংকট দেখা দেয়।
ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় শরীয়তপুরের নরসিংহপুর ফেরিঘাট ও চাঁদপুর প্রান্তে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পণ্যবাহী যানবাহন আটকে থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা মোতালেব হাওলাদার বলেন, সংকট নিরসনে ভোলা ফেরিঘাট থেকে কাবেরী নামের একটি অতিরিক্ত ফেরি শরীয়তপুর-চাঁদপুর ঘাটের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। তবে ফেরি চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেনি সংস্থাটি।
নরসিংহপুর ফেরিঘাটের টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট রাসেল হোসেন বলেন, ‘ফেরির ত্রুটি সমাধানে কাজ চলছে। আশা করছি, দ্রুতই ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে।’ দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান মিয়া নুরুউদ্দিন মিয়া ও সোবহান সিকদার। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে প্রায়ই ফেরি বিকলের কারণে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আধুনিক ও পর্যাপ্ত ফেরি সংযোজন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দাবি জানান তারা।