ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিননামা ছাড়াই হত্যা মামলার তিন আসামি মুক্ত হওয়ার ঘটনায় অসাধু কারা সদস্যদের হাত ছিল বলে দাবি করেছে র্যাব। তবে এর মধ্যে ছাড়া পাওয়া তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অসাধু কারা সদস্যদের সহায়তায় ওই তিন আসামি মুক্ত হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন র্যাব-১৪ ময়মনসিংহ সদর দপ্তরের অধিনায়ক নয়মুল হাসান।
শুক্রবার, (৩০ জানুয়ারী ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে নিজ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তাররা হলেন- তারাকান্দা থানার তারাটি গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মো. আনিস মিয়া, রাশেদুল ইসলাম এবং জাকিরুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে র্যাব কর্মকর্তা নয়মুল হাসান বলেন, ওই তিনজন তারাকান্দা থানার একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। গত ২৩ জানুয়ারি তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর থেকে তারা কারাগারে ছিলেন। ২৭ জানুয়ারি কারাগারের অসাধু সদস্যদের সহায়তায় পালিয়ে যান তারা।
বিষয়টি র্যাবের নজরে আসলে আবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান নয়মুল হাসান। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘ভুল তথ্যে’ জামিন ছাড়াই তিন আসামিকে মুক্তি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। জামিন ছাড়াই হত্যা মামলার তিন আসামির মুক্ত হওয়ার খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেইসঙ্গে এ ঘটনায় কর্তব্য অবহেলার অভিযোগে কারাগারের ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে বরখাস্ত করা হয়।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা বিভাগ-২ এর ডিআইজি প্রিজন্স টিপু সুলতানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘হাজিরা পরোয়ানাকে জামিননামা ভেবে ভুল তথ্যে আসামিদের মুক্তি দেয়া হয়। মূলত এটি দায়িত্বরত কর্মকর্তার ভুল। ভালোভাবে হাজিরা পরোয়ানা পত্রটি পড়লে এ ঘটনা ঘটতো না।’ তদন্ত প্রতিবেদনে কারো বিরুদ্ধে কর্তব্য অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান এ কারা উপ-মহাপরিদর্শক।
নগর-মহানগর: বনানীতে আবাসিক ভবনে আগুন