আওয়ামী লীগ শাসনামলে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিেিত একটি সদস্য পদ লাভের আশায় যারা দিনের পর দিন সময় ও অর্থ ব্যয় করে লুফে নিয়ে নিয়েছেন পদপদবী ও ব্যাক্তি স্বার্থ। ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর এসব নেতারা আত্মগোপনে
চলে যান। তাদের অনেকেই এখন দিনদিন ঘরে ফিরছেন এবং প্রতিদিন বিএনপিতে যোগদান করছেন। এসব নব্য বিএনপি সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে জয়ী করতে নির্বাচনী প্রচারনা করে বেড়াচ্ছেন।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট কমিটিতে তালিকাভুক্ত নেতাকর্মী হয়ে বিএনপিতে যোগদান করে আলোচনা সমালোচনার তুঙ্গে আছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মো. জিয়াউল ইসলাম জিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান, ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি সৈয়দ জামান। পাররামরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. সেলিম মিয়া জেকে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়া।
চুকাইবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মহসিন আলী আকন্দ, সুনু মিয়া, আজিজুল হক, মাহমুদুল হক। দেওয়ানগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ, আশরাফুল আলম, আব্দুল হাই, মহিলা সদস্য আছিয়া আক্তার সহ অনেকেই।
এছাড়াও গণহারে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের সর্দারপাড়া ও কান্দির গ্রামের আওয়ামী সমর্থক বাসিন্দারা। চিকাজানি ইউনিয়নের চরমাগুরি হাট এলাকার বাসিন্দারা। চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। বিএনপিতে যোগদান করা এসব জনপ্রতিনিধি, নেতাকর্মীরা বিএনপির পক্ষে ভোটের মাঠে সরব ভূমিকা পালন করছেন।
নাম গোপন রাখার শর্তে, আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকৃত এসব চেয়ারম্যান ও নেতাকর্মীরা বলেন, আওয়ামী লীগ এখন মাঠে নেই। আওয়ামী লীগ ধরে থাকলে হামলা-মামলার শিকার হতে হবে। বিএনপির পক্ষে নির্বাচনী কাজ করে বিএনপিতে যোগদান করলে এসব ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। এখন যুগটাই এমন যখন যে দল আসবে তখন ওই দলের সঙ্গে মিলেমিশে চলতে হবে। নয়তো অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে।
আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকৃত নেতা কর্মীদের বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা বলেন, অত্র উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা স্ব-ইচ্ছায় বিএনপির পক্ষে নির্বাচনী কাজ করছে। উপরের নির্দেশনা অনুযায়ী যাদের দ্বারা বিএনপির কোন ক্ষতি হয়নি তাদের বিএনপিতে রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। তবে ওইসব এলাকার বিএনপির নেতাদের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া তাদের (আওয়ামী লীগ) বিএনপিতে নেয়া হবে না।