নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রতীক পর আনুষ্ঠানিক ভাবে মাইকিং, মিছিল, গণসংযোগ ও পথসভায় সরগরম হয়ে উঠছে পুরো নির্বাচনী এলাকা।
এবার পূর্বধলায় মূলত দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ- এই তিন দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এর পরও সবশেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে আওয়ামীলীগের ভোটের ওপর নির্ভর করছে কে বিজয়ের হাসি হাসবে। ইতোমধ্যে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন প্রমাণ করে লড়াই তীব্র হবে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্র নেতা আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার। তিনি বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। গণসংযোগকালে তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে আমি নির্বাচনে নেমেছি। পূর্বধলার মানুষ এবার ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবে বলে আমি আশাবাদী।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে প্রার্থী হয়েছেন দলের জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন। প্রচারণায় তিনি বলেন, সৎ, যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রাখবে বলে বিশ্বাস করি।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুফতি নূরুল ইসলাম হাকেমী। তিনি হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন- এই বিষয়গুলোই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। ভোটাররা বলছেন, তারা যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পূর্বধলায় নির্বাচনী প্রচারণা দিন দিন বাড়বে। শেষ পর্যন্ত কারা ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারেন- সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো উপজেলার মানুষ।