image
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) : হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট -সংবাদ

মানিকগঞ্জে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সংকট, আতঙ্কিত রোগীরা

প্রতিনিধি, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

মানিকগঞ্জের ২৫০ শর্যা বিশিষ্ট হাসপাতালসহ ৭টি উপজেলার হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট মারাত্মকভাবে দেখা দিয়েছে। এমনকি হাট বাজারে ফার্মেসিগুলোতে ভ্যাকসিন নেই। বর্তমানে ৭টি উপজেলার বেওয়ারিশ কুকুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তাঘাট, মাঠ, বাজারের অলিগলিতে বসবাড়িতে বিড়াল ও শিয়াল ও কুকুরের কামড় এবং আঁচরের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব প্রাণির কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগি হাসপাতালে এলেও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরছেন হতাশা হয়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমন অবস্থাতে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত কয়েক মাস যাবৎ মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে কোনো ভ্যাকসিন নেই। সরকারিভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভ্যাকসিনের সংকট প্রকোট আকার ধারন করেছে। ঘিওর উপজেলার কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত একজন ভুক্তভোগী জানান, আমার ছেলেকে ২-৩ দিন আগে একটি বিড়ালে কামড় দেয়। টিকা না পেয়ে অবশেষে ঢাকা মিটফোর্ট থেকে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে ভ্যাকসিন কিনে এনে তাকে দিতে হয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালেও ভ্যাকসিনের জন্য গিয়েছিলাম কিন্তু দুঃখের বিষয় সেখানেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই। সব চেয়ে বেশি বিপাকে পরেছে কমলমতি শিশু ও নিম্ন আয়ের লোকজন। আক্রান্ত অনেক রোগিরা ঢাকা থেকে অতিরিক্ত দামে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করছে। এ কারণে গ্রাহকরা সীমাহীন হয়রানির শিকার হচ্ছে।

ঘিওর বাজারের মা বাবা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী নিরঞ্জন কুমার দাশ জানান, আমাদের ফার্মেসিতে গড়ে প্রতিদিন ৪-৫টি ভ্যাকসিন বিক্রি হতো। আমাদের মতো আরও অনেক ফার্মেসিতে সরবরাহ করত। ইনসেফটা ও পপুলার ফার্মাসিটিক্যাল এই ভ্যাকসিন বাজারে সরবরাহ করে থাকে। ইনসেফটা মাঝে মধ্যে দিলেও পপুলার দীর্ঘদিন ধরেই সরবরাহ বন্ধ করেছে। ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ঘিওর উপজেলা ফার্মাসিটিক্যাল রিপ্রেজেনটিভি অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) সভাপতি মিহির কান্তি সরকার বলেন, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে জলাতঙ্কের (রেবিক্স) ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন বরবরাহ হয়ে যাবে।

ঘিওর উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার বিপুল বালো বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সরকারিভাবে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সরবরাহ খুবই কম দেয়া হয়। কাজেই রোগিদের চাহিদা অনুয়ায়ী আমরা দিতে পারি না। জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন জানান, ডা. এ কে এম মোফাখখরুল ইসলাম বলেন, মানিকগঞ্জে সদর হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যকসিন গত কয়েক মাস ধরে সরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। যার কারণে সংকট দেখা দিয়েছে। তবে দ্রুত সংকট কেটে যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দৌড়বিদদের অংশগ্রহণে রাউজানে ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

» ৮শ শিক্ষার্থী নিয়ে তারুণ্য ফাউন্ডেশনের স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

» নরসিংদীতে মাদকসহ আটক ৩

সম্প্রতি