পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে কাদির (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে পলাশ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ৮টার দিকে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। স্থানীয়ভাবে কোনো সমাধান না পেয়ে শিশুটির পরিবার গত শুক্রবার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে গতকাল শনিবার কাদিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর ধর্ষকের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল শনিবার সকালে কাদিরের পক্ষের লোকজন বাদীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাদীনির বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং বাদীনি ও তার মাকে মারধর করে।
গ্রেপ্তার আব্দুল কাদির উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার কুমারটেক গ্রামের মৃত আব্দুল আওয়ালের ছেলে। অন্যদিকে ধর্ষণের শিকার শিশু পার্শ্ববর্তী বাড়ির এক স্বামী পরিত্যক্ত নারীর মেয়ে। বাদীনি বাবার বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে কোনমতে দিন কাটাচ্ছে।
বাদীনি জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে তিন বছর বয়সী তার শিশু কন্যা বাড়ির সামনে খেলাধুলা করতে থাকে এবং তার মা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর শিশু কন্যাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এদিক সেদিক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির কাদিরকে তার শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে আসতে দেখে। মেয়েকে কোলে নিয়ে চলে আসতে চাইলে কিন্তু তার মেয়ে কিছুতেই কোলে উঠতে চাচ্ছিল না। এ অবস্থা কি হয়েছে বলে মেয়ের কাছে জানতে চাইলে সে তার বিশেষ অঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করে মাকে বলে ওঠে ‘মারছে’। পরে মেয়েকে নিয়ে ঘোড়াশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে শিশু মেয়েটির ইনজুরি হয়েছে বলে চিকিৎসক জানায়।
স্থানীয়রা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে পলাশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কুতুবুল মিয়া বলেন, অভিযোগের পর এ ঘটনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিযে পলাশ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে ঘটনা সত্যতার প্রমাণ পাওয়া অভিযুক্ত আব্দুল কাদিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।