image
ছবিঃ সংগৃহীত

মোরেলগঞ্জে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মাছের ঘের দখলের অভিযোগ

প্রতিনিধি, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বহরবুনিয়া ইউনিয়নে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ঘের দখলের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার সকালে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ঘের মালিকরা। এ ঘটনায় বাবুল হাওলাদার বাদি হয়ে মো. মনির হোসেন হাওলাদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

প্রাপ্ত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের বহরবুনিয়া গ্রামের ২নং ওয়ার্ডে ৮০ বিঘার একটি মৎস্য ঘের পাশর্^বর্তী ছাপড়াখালী গ্রামের বাবুল হাওলাদারের পরিচালনায় ১০-১৫ জন স্থানীয়রা মৎস্য ঘেরটি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে একই এলাকার ২নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. মনির হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রস্বস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মৎস্যঘেরের বেড়িবাঁধ কেটে নতুন করে এক্সকাবেটার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রায় ৫০ বিঘার জমি জোরপূর্বক দখলে নেয়। এ সময় হামলাকারিরা ওই ঘের থেকে বাগদা, গলদা, সাদা মাছসহ প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ ধরে দিয়ে যায়।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ভুক্তভোগী ঘের মালিক বাবুল হাওলাদার, জাকির জোমাদ্দার, সেলিম সেফাই, আউয়াল হাওলাদার, আলাউদ্দিন শিকদারসহ একাধিক স্থানীয়রা বলেন, দলের প্রভাব খাটিয়ে রাতারাতি ঘেরের মধ্যে থেকে ৫০ বিঘা জমি দখলে নেয় জামায়াত নেতা মনির হাওলাদার ও তার লোকজন। এখনও ক্ষমতায় যেতে পারেনি তারা ক্ষমতায় গেলে কি করবে। আওয়ামী লীগের আমলে এক পক্ষ দখলে নিয়েছে এখন আবার নতুন করে জামায়াত নেতা লোকজন নিয়ে আমাদের ঘেরটি দখল ও ঘেরের মাছ ধরে নিয়েছে। থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি প্রশাসনের কাছে আমরা বিচার চাই। পরিবার পরিজন নিয়ে প্রভাবশালীদের ভয়ে আতঙ্কে আছি।

এ বিষয়ে বহরবুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো. মনির হোসেন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন তিনি কারও ঘের দখল করেননি। ওই ঘেরটির মধ্যে স্থানীয় হিন্দুদের কাছ থেকে হাড়ির টাকা দিয়ে ও তার বংশের লোকজনের ৪৮ বিঘা জমির মালিক তিনি। মাটি তারই কটেছে। ওই জমির মধ্যে বাবুল হাওলাদারের কোন জমি নেই। শুধু বেড়িবাঁধ একটি অংশ কেটা হয়েছে।

বরবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ হাওলাদার বলেন, বাবুল হাওলাদারের মৎস্য ঘেরের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছিল। সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০ বিঘা জমি মনির হাওলাদারকে দেয়ার। তারা তা না মেনে রাতের আধারে ঘেরের একটি অংশ দখলে নিয়েছে। ঘটনাটি সঠিক।

বহরবুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির গিয়াস উদ্দিন বলেন, মৎস্য ঘেরের বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তিনি নিজেও দুইবার সালিশ করেছেন। ২০ বিঘা জমি মনিরকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিলো। তবে, ঘের দখলের বিষয়টি উভয় পক্ষ কেউ তাকে অবহিত করেননি।

এ সর্ম্পকে মোরেলগঞ্জ থানা ওসি মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত এটি দেওয়ানি বিষয়। অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ডা. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রদান

» চাটখিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের মতবিনিময়

» দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দৌড়বিদদের অংশগ্রহণে রাউজানে ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

» ৮শ শিক্ষার্থী নিয়ে তারুণ্য ফাউন্ডেশনের স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

সম্প্রতি