image
দুর্গাপর (নেত্রকোণা) : ঐতিহাসিক টংক আন্দোলনে শহিদ হাজং মাতা রাশিমণির প্রয়াণ দিবস পালন -সংবাদ

দুর্গাপুরে টংক আন্দোলনের মহীয়সী নারী হাজং মাতা রাশি মণির ৮০তম প্রয়াণ দিবস পালন

প্রতিনিধি, দুর্গাপর (নেত্রকোণা)

নেত্রকোণার দুর্গাপুর-ভারত সীমান্তে বিজয়পুরে ঐতিহাসিক টংক প্রথা বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক মহীয়সী নারী শহিদ হাজং মাতা রাশিমণির ৮০তম প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে। প্রতি বছরের মতো ৩১ জানুয়ারি রাশিমণির স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির আয়োজনে মালা আরেং-এর সঞ্চালনায় দিনব্যাপী আনুষ্ঠানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ ও আদিবাসীদের বিশাল এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। পরে বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক পরাগ রিছিল এর সভাপতিত্বে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সাহিত্যক, কবি, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, দুর্গাপুর-ভারত বিজয়পুর সীমান্তে মেঘালয়ের সারি সারি গিরি শ্রেণী গারো পাহাড়ের মেঘালয় কন্যা সোমেশ্বরী নদীর সানুদেশ বিস্তীর্ণ প্রান্তর সুসঙ্গ পরগনা দুর্গাপুরের প্রতাবশালী রাজার অধীনে গারো হাজংরা ছিল নিতান্তই সাধারণ। না ছিল তাদের বাহু বল। না ছিল তাদের সমৃদ্ধি। আর এ দুর্বলতাকে পুঁজি করে সুসঙ্গ রাজ শাসকরা চালু করেছিল টংক প্রথা নামক শোষণের এক নির্মম জাঁতাকল। আদিবাসী-অনাদিবাসী দরিদ্র জনগোষ্ঠির ঘামে শ্রমে ফলানো সোনার ধান কড়ায় গন্ডায় হাতিয়ে নিত খাজনার নামে। এমনকি ফসল হোক আর না হোক চুক্তির খাজনা পরিশোধ করতেই হতো। অমানবিক এই কর্মকা-ে গারো-হাজংদের মধ্যে ক্ষোভের দানাবাধতে থাকে। প্রায় ৮০ বছর আগে ১৯৪৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর একদল ব্রিটিশ পুলিশ টংক আন্দোলনকারী নেতাদের গ্রেপ্তার করার উদ্দেশ্যে দুর্গাপুর সদর হতে ৪ কিলোমিটার দুর বহেড়াতলী গ্রামে হানা দেয়। ঐ গ্রামের রূপসী কন্যা কুমুদিনি হাজংয়ের স্বামী লংকেশ্বর হাজংসহ তার ভাই ইসলাম্বর হাজং ও গজেন্দ্র হাজং ছিলেন টংক প্রথাবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা। পুলিশ তাদের বাড়িতে না পেয়ে রূপসী নববধূ কুমুদিনি হাজংকে ধরে বিরিশিরি পুলিশ ক্যাম্পে নিতে চাইলে রাশিমণি হাজং এর নেতৃত্বে শতাধিক নারী পুরুষ লাঠি, দা, ধনুক ও কোদাল নিয়ে মারমুখি হয়ে ঝাপিয়ে পড়ে পুলিশের উপর। পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই গুলি বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন রাশিমণি ও সুরেন্দ্র হাজংসহ আরও ২০-২৫ জন। পুলিশ পরে কুমুদিনী হাজংকে রেখে চলে যেতে বাধ্য হয়। পুলিশের অত্যাচারে গ্রামটি হয়ে পড়েছিল জনশূন্য।

ঐতিহাসিক টংক আন্দোলনের প্রতীক মহীয়সী এই আদিবাসী নারীর বিজয়পুর বহেরাতলী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত স্মৃতিস্তম্ভে ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে প্রয়াণ দিবস পালিত হয় এবং সৃষ্টি হয় আদিবাসীদের এক বিশাল মিলন মেলা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আদিবাসী বর্ষিয়ান নেতা মতিলাল হাজং, সাবেক পিটিআইর অধ্যক্ষ জেমস বারেন্দ্র দ্রং, প্রধান শিক্ষক পল্টন হাজং, লেওয়াটানা বাংলাদেশ বেতারের সরা হাজং, রূপম হাজং, হরিদাস হাজং, রাজনীতিবীদ এম এ জিন্নাহ্, সিনিয়র সাংবাদিক সংবাদ মো. মোহন মিয়া, কবি সজিম সাইন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার প্রমুখ।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ডা. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রদান

» চাটখিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের মতবিনিময়

» দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দৌড়বিদদের অংশগ্রহণে রাউজানে ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

সম্প্রতি