image
বেতাগী (বরগুনা) : পৌর শহরের ওয়াপদা সড়ক এলাকার আমগাছ ছেয়ে গেছে মুকুলে

বেতাগীতে গাছে গাছে দেখা মিলছে আমের মুকুল

প্রতিনিধি, বেতাগী (বরগুনা)

উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের বসতঘরও সড়কের পাশে লাগানো আমগাছের মুকুল আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় কৃষি অফিস ও গবেষকদের প্রাপ্ত তথ্যে এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ আম গাছে মুকুল এসেছে। এসব আমের মুকুল বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ ছড়াচ্ছে। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করছে। গবেষকদের মতে পুরোপুরি আসতে আরো দুসপ্তাহ সময় লাগবে। ঘন কুয়াশার কারণে এবছর চাষিরা আমের মুকুল নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই উঠতি মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে স্বপ্ন। ইতোমধ্যে এসব গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে জানান বাগান মালিকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, বেশির ভাগ গাছেই মুকুল আসতে আরো দুসপ্তাহ লাগবে। ঘনকুয়াশার কারণে আম উৎপাদন নিয়ে এবারে সংশয় রয়েছে বলে চাষি ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত দুসপ্তাহজুড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘনকুয়াশা। এতে আমের মুকুলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আম চাষি কৃষ্ণ কান্ত ঘরামী বলেন, এলাকার অনেক বাগানে ঘুরেছি, অধিকাংশ গাছে মুকুল আসলেও পুরোপুরি সকল গাছে মুকুল আসেনি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সব গাছে মুকুল চলে আসবে।’

সরেজমিনে বেতাগী পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালীকান্দা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বেতাগীতে দেশি প্রজাতির কয়েক প্রকারের ফজলি, লক্ষণভোগ, আশ্বিনা, গোপালভোগ, হাড়িভাঙা, বারি-৪সহ অনেক জাতের আম চাষ হয়ে থাকে। আমের দাম গত বছর ভালো থাকায় এবছর আম গাছের পরিচর্যায় আগ্রহ বেড়েছে। আম চাষিরা বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাড়তি ফলনের আশায় আগাম পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা। এসব আম বাগানে কিছু অংশে মুকুল ধরেছে। ঢালীকান্দা গ্রামের আম চাষি কৃষ্ণকান্ত ঘরামী বলেন, ‘বাড়তি ফলনের জন্য এবং পোকামুক্ত আর আমের রং ঠিক রাখতে কীটনাশক ও ভিটামিন দিয়ে আমের গাছ স্প্রে করছি। যেন মুকুল বেশি ও ভালো হয়। গাছের গোড়ায় জৈব সারসহ সেচ দিয়েছি যে কারণে মুকুল ভরে গেছে। বেতাগী পৌরসভার চাষি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী শ্রমিকরা আম চাষের পরিচর্যা করছেন এবং আমার আম বাগানে কিছু অংশে মুকুল এসছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন, এখন পর্যন্ত পুরোপুরি আমের মুকুল আসেনি। পুরোপুরি আসতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। ঘনকুয়াশার কারণে জীবানু নাশক স্প্রে করা যেতে পারে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বাগানের গাছগুলোতে ৩০ ভাগ আমের মুকুলে ভরে গেছে। তবে ঘনকুয়াশা বা কোন দুর্যোগ দেখা না দিলে আমের ভালো ফলন হবে। আমের মুকুল রক্ষায় পোকা দমনে বালইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ডা. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রদান

» চাটখিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের মতবিনিময়

» দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দৌড়বিদদের অংশগ্রহণে রাউজানে ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

সম্প্রতি