image
ছবিঃ সংগৃহীত

শেরপুরে মাটির হাঁড়ির বদলে প্লাস্টিক বোতলে চলছে খেজুর রস সংগ্রহ

প্রতিনিধি, শেরপুর (বগুড়া)

শীত এলেই গ্রামবাংলায় খেজুর রসের কথা মনে পড়ে। ভোরের কুয়াশা আর ঠান্ডার মধ্যে খেজুর গাছ থেকে ঝরে পড়া মিষ্টি রস বহুদিন ধরে বাঙালির শীতকালীন সংস্কৃতির অংশ। তবে সময়ের সঙ্গে এই যুক্ত হয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনতার নতুন ভাবনা। নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি কমাতে এখন মাটির হাঁড়ির বদলে প্লাস্টিক বোতলে নেট দিয়ে ঢেকে খেজুরের রস সংগ্রহে ঝুঁকছেন গাছিরা।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ী গ্রামে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। আগে খোলা মাটির হাঁড়িতে রস সংগ্রহ করা হতো। এতে বাদুড় ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গ সহজেই রসে প্রবেশ করত। সেই রস অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ত, যা নিপা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতো। এ কারণেই স্থানীয় গাছিরা এখন প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করছেন।

খেজুরের রস দিয়ে তৈরি হয় ফিরনি ও পায়েস। আবার রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা গুড় দিয়ে শীতের দিনে ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা, খই, চিড়া ও মুড়িসহ নানা রকম পিঠাপুলি বানানো হয়। অনেকে বিশ্বাস করেন, খেজুরের রস শরীরের দুর্বলতা দূর করে। এতে প্রাকৃতিক চিনি ও নানা উপাদান থাকলেও কাঁচা রস পান করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও থাকে। ঘোলাগাড়ী গ্রামের গাছি বাদশা মিয়া জানান, তিনি প্রতি বছর প্রায় ১০টি খেজুর গাছ প্রস্তুত করেন। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছ লাগিয়ে পরদিন ভোরে রস সংগ্রহ করেন। সেই রস তিনি ফেরি করে বিক্রি করেন এবং নালি বানান। এতে শীত মৌসুমে তার প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হয়। তিনি বলেন, বাদুড় ও কীটপতঙ্গের প্রবেশ ঠেকাতেই এখন মাটির হাঁড়ির বদলে প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করছেন। গ্রামের অনেকেই নিজেদের খাওয়ার জন্য কিংবা বিক্রির উদ্দেশ্যে খেজুর গাছ লাগান। একই গ্রামের আরেক গাছি মিঠু প্রমাণিক বলেন, তিনি রস জ্বাল দিয়ে নালি ও গুড় তৈরি করেন মূলত পরিবারের জন্য। এই গ্রামে অনেকেই খেজুরের গুড় বানান, যা শীতের খাবারে আলাদা স্বাদ যোগ করে। খেজুরের রস সাধারণত অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়। ঠান্ডা আবহাওয়া, মেঘলা আকাশ ও কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল রস পাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পৌষ ও মাঘ মাসে রসের পরিমাণ ও স্বাদ সবচেয়ে ভালো থাকে।

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রসের পরিমাণ ও মান কমে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিক লিংকন বলেন, শীতকালে মানুষের খেজুরের রস খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। কিন্তু যেহেতু এই রসের মাধ্যমে নিপা ভাইরাস ছড়াতে পারে, সে কারণে সবাইকে কাঁচা খেজুরের রস না খাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ডা. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রদান

» চাটখিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের মতবিনিময়

সম্প্রতি