মায়ের শেষ বিদায়ে সন্তানের উপস্থিতি মানেই এক গভীর মানবিকতা আর হৃদয়বিদারক বেদনার দৃশ্য। তেমনই এক করুণ মুহূর্তের সাক্ষী হলো জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার আবাদপুর গ্রামের মানুষ। কারাবন্দী অবস্থায় মাত্র তিন ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নেন যুবলীগ কর্মী মিন্নত আলী (৩৬)। চোখে অশ্রু, বুকে ভার এক হাতে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই তিনি কাঁধে তুলে নেন মায়ের খাটিয়া। হাতকড়ার শিকল বাঁধা থাকলেও মায়ের প্রতি শেষ দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা মানতে রাজি হননি তিনি।
গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ পাহারায় মিন্নত আলীকে তার নিজ গ্রাম গোপীনাথপুর ইউনিয়নের আবাদপুরে আনা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মা মোমেনা বেগমকে দাফন করা হয়। মোমেনা বেগম আবাদপুর গ্রামের মৃত মোবারক আলীর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ কর্মী মিন্নত আলী ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অভিযানের আওতায় জয়পুরহাট সদর থানার একটি মামলায় গত ২১ ডিসেম্বর আটক হয়ে গত ৪১ দিন ধরে কারাগারে ছিলেন। গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় নিজ বাড়িতে তার মা মোমেনা বেগম মারা যান। কারাগারে থাকা অবস্থায়ই মায়ের মৃত্যুর খবর পান মিন্নত আলী।
মায়ের জানাজায় অংশ নেয়ার জন্য অনুমতি চেয়ে তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-মামুন মিয়া মানবিক বিবেচনায় মিন্নত আলীকে তিন ঘণ্টার জন্য সাময়িক প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেন।
জানাজার সময় এক হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের খাটিয়া কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। অনেকের চোখে জল দেখা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, আইন তার নিজস্ব পথে চলে। কিন্তু মায়ের জানাজায় ছেলের এমন উপস্থিতি আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে।
জয়পুরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার উম্মে সালমা বলেন, মিন্নত আলীর মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রীর আবেদনের পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, পরিবারের আবেদনের পর মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নেয়ার জন্য তাকে সীমিত সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।