image
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) : গঙ্গা-পুণ্যস্নানে পুণ্যার্থীরা -সংবাদ

নদীর পানি দূষিত হওয়ায় বিপাকে গঙ্গাস্নানে আসা পুণ্যার্থীরা

প্রতিনিধি, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ৭শ বছরের ঐতিহ্যের বাহক মাঘীপূর্ণিমা তিথিতে গঙ্গা-পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ বছর নদীর পানিতে ফরিদপুর সুগার মিলের অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলায় পানি দূষণ হয়ে উৎকট দুর্গন্ধ ছাড়ানোয় অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন পুণ্যার্থীরা।

গঙ্গাস্নান উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধা ভোর হতেই এসেছে পুণ্যস্নানে, ব্যবহারে অযোগ্য পানিতেই বাধ্য হয়েই স্নান ও পূজা অর্চনা সারতে হচ্ছে তাদের।

গত ও বেবার উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের জয়নগরে অবস্থিত ঐতিহাসিক কয়ড়া শ্রী শ্রী কালীমন্দির ঘেঁষে প্রবাহিত কুমার নদে এ পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম এ পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই দূরদূরান্ত থেকে পদব্রজে ও নানা যানবাহনে ছুটে আসে সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে এ পুণ্যস্নানের মাধ্যমে গঙ্গাদেবীর কাছে প্রার্থনা করে নিজেদের পাপ মোচন করেন ভক্ত-পুণ্যার্থীরা। গঙ্গাস্নানের অংশ হিসেবে গঙ্গার শাখা নদী কুমার নদের এ ঘাটে পবিত্র হতে এ স্নান করা হয়। এ সময় মা গঙ্গা মন্ত্র, আসমান, সূর্যাগ্য মন্ত্র এরকম নানা মন্ত্র পাঠ করা দেবীর পায়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে ভক্তরা। আয়োজক কমিটি জানায় ফরিদপুর সুগার মিলের বর্জ্য পদার্থ নদীর জলে ছাড়ার কারণে এ বছর জল দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। যে কারণে ভক্তকুল অনেকটা বিপাকে পড়েছে। যশোরের বাঘাইর থেকে আসা শিমুল কুমার সাহা জানান, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর যাবত মাঘীপূর্ণিমার এই তিথিতে গঙ্গাস্নানে আসি। এ বছর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্নান করে মন্ত্র পাঠ করে মায়ের পদতলে লবণচিনি অর্পণ করেছি। তবে জল পচে গন্ধ ছড়াচ্ছে, যে কারণে শিশুদের স্নান করা থেকে বিরত রেখেছি। জেলার সদরপুর উপজেলা দেবানন্দ আশ্রম থেকে ৪৫ জনের দল নিয়ে এসেছেন পুরোহিত অসীত ঠাকুর। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবত সদরপুর থেকে গঙ্গা মায়ের পুণ্যস্নানে আসি। স্নানের মাধ্যমে মায়ের কাছে প্রার্থনা করে নিজেদের পাপ কিছুটা মোচনের চেষ্টা করি। আমাদের তো ভরত গিয়ে গঙ্গা মাকে পূজা দেয়া সম্ভব নয় তাই প্রাচীনতম তীর্থ স্থান কয়ড়া কালীবাড়ি মন্দিরের গঙ্গাস্নানে আসি। কয়রা কালী মন্দির কমিটির সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুভাষ চন্দ্র সাহা জানান, প্রায় ৭শ বছর ধরে কয়রা কালিমন্দির সংলগ্ন কুমার নদে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেশের বাইরে থেকে ভক্তরা আসেন এখানে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় দুই বছর যাবৎ মধুখালিতে অবস্থিত ফরিদপুর সুগার মিলের অপরিশোধিত বর্জ্য ঠিক গঙ্গাস্নানের আগে নদীতে ছেড়ে দিচ্ছে, এতে নদীর জল দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যা পুণ্যার্থীদের জন্য ভীষণ কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ রাখছি ভবিষ্যতে যাতে মিল কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কাজ গঙ্গা স্নানের আগে না করে।

তিনি আরও জানান, স্নান শেষে সবাইকে প্রসাদ দেয়া হয়। এ ছাড়া সপ্তাহব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। স্নান ও মেলা উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসন বেশ তৎপর রয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি আশা করি এ বছরও নির্বিঘেœ অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি