বেড়া পৌর মহল্লার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ সানিলা থেকে পূর্বদিকের আলহেরা ক্যানেল পর্যন্ত প্রায় ১ কি.মি. সড়কটি যেন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছে কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে আলহেরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিলেনিয়াম স্টার স্কুল এন্ড কলেজ এবং গ্যালাক্সি স্কুল এন্ড কলেজ ও রেইবো স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে এ পথ দিয়েই যাতায়াত করতে হয় সকাল-বিকেল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভাঙাচুরা এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকছে।
এক সময় যেখানে সহজেই রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল কিংবা ছোট গাড়ি চলাচল করত, আজ সেখানে সর্বত্র খানাখন্দে পানি জমে থাকে। অনেক স্থানে পিচ উঠে গিয়ে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা হঠাৎ এসব গর্তে পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন প্রায়ই।
বর্ষা মৌসুম এলে দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছায়। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তাটি কাদার সাগরে পরিণত হয়। পায়ে হেঁটে যাতায়াতকারীদের জুতো কাদায় আটকে যায়, রিকশা-ভ্যান টানতে গিয়ে চালকদের নাভিশ্বাস ওঠে। গাড়ি কাদা এড়িয়ে যেতে চাইলে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়। অপরদিকে শুকনো মৌসুমে এ পথজুড়ে ধুলার ঝড় বয়ে যায়। ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। এতে শিশু-বৃদ্ধরা প্রায়ই শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হন।
এ পথ দিয়েই প্রতিদিন সকাল-বিকেলে কয়েকশত শিক্ষার্থীকে ব্যাগ হাতে যাতায়াত করতে হয়। ছোট ছোট বাচ্চারা ধুলো এড়িয়ে কিংবা কাদা মারিয়ে স্কুলে পৌঁছানোই যেন নিত্যদিনের যন্ত্রণা।
মিলেনিয়াম স্টার স্কুলের অষ্টম শ্রেণী ছাত্র কাবিল ও মাহিম হোসেন বলেন, আমাদের বাড়ি থেকে এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তাটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে অনেক সময় স্কুলে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। আমরা আশা করি আমাদের পড়াশোনার কথা চিন্তা করে অন্তত শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এই রাস্তা দ্রুত সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।
অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। কখন যে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়, আবার মোটরসাইকেলের ধাক্কায় দুর্ঘটনা ঘটে এই ভয় সবসময় তাড়া করে। অথচ আমরা গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির বহুদিন ধরে সংস্কারের অভাবে পরে আছে দেখার কোন মানুষ নাই।
বেড়া পৌর এলাকার সানিলা মহল্লার বাসিন্দা আব্দুল খালেক মোল্লা জানান, প্রায় সাত-আট বছর ধরে রাস্তারটি জড়াজির্ণ অবস্থায় দেখছি। অথচ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাইকে প্রতিদিন কষ্ট করে এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করছেন। কর্মজীবীরা অফিস বা বাজারে যেতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। কৃষকরা জমি থেকে ফসল বাজারে আনা-নেওয়া করতে পারছেন না। গাড়িচালকেরা এ পথে আসতে চান না বলে পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে।’
আলহেরা নগরের বাসিন্দা ও মনজুর কাদের মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল খালেক বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। আমিও কলেজে আসা-যাওয়ার সময় এ পথ ব্যবহার করি। রাস্তাটির অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে সাধারণ মানুষ অন্তত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে।’
বেড়া পৌর এলাকার সানিলা মহল্লার আরেক বাসিন্দা আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের এক প্রতিবেশী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়েছিল। কিন্তু ড্রাইভার সরাসরি বলেন, এই রাস্তায় গেলে গাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে। পরে বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়। রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। সব মিলিয়ে এ রাস্তার দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।’
এলাকাবাসী বলছেন, বহু বছর ধরে তারা বিভিন্নভাবে দাবি জানালেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী ও জনসাধারণ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই এই রাস্তায় চলাচল করছে। তারা আশা করছে, প্রশাসন অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে এবং দ্রুত সড়ক সংস্কারের ব্যবস্থা নেবেন।
বেড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল আলম জানান, ইতিমধ্যেই সানিলা হাইওয়ে থেকে আলহেরা পর্যন্ত সড়কের জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছি। এ বিষয়ে স্থানীয়দের বহু অভিযোগ এসেছে।
সড়কটি সংস্কারের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে খুব দ্রুতই রাস্তার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে শুষ্ক মৌসুমে কাজ শুরু করলে টেকসই হবে। জনগণের কষ্ট আমরা বুঝি, তাই দ্রুত সমস্যা সমাধানে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।
আন্তর্জাতিক: পশ্চিম তীরে বেদুইন সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করছে ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক: ইউক্রেনে রাশিয়াকে পরাজিত করতে ব্যর্থ ইউরোপ: মেদভেদেভ
আন্তর্জাতিক: তুরস্কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু, আহত ৩০
অর্থ-বাণিজ্য: ১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের ড্র
অর্থ-বাণিজ্য: চার মাস পর ডিএসইতে ৭০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন