image
কুয়াশার মোড়ক খুলে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় নড়াইলে বোরো ধান রোপণের ধুম পড়েছে। ছবিটি লোহাগড়া উপজেলার হান্দলা বিল থেকে তোলা -সংবাদ

রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় নড়াইলে বোরো ধান রোপণের ধুম

প্রতিনিধি, নড়াইল

কুয়াশার মোড়ক কাটিয়ে রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ায় নড়াইলে বোরো ধান রোপণের ধুম পড়েছে। কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বোরো ধান রোপণের কর্মযজ্ঞ। বীজতলার পাশাপাশি সার ও সেচের কোনো সংকট নেই এই মুহূর্তে।

বীজতলা, সেচ ব্যবস্থাপনা ও সারের মজুদ পর্যাপ্ত, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদের আশাবাদ

তিন বছরের ব্যবধানে নড়াইলে বেড়েছে বোরো ধান চাষাবাদ

বিগত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙে এবার বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এদিকে কৃষকরা জানান, বোরো মৌসুমের শুরুতে শীত ও কুয়াশার দাপট থাকায় প্রথমদিকে ঠিকমতো ধান রোপণ করতে পারেননি তারা। তবে অন্তত ২০ দিন আগে প্রকৃতির সেই বিরূপ পরিবেশ কেটে গিয়ে নড়াইলের আকাশে রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করছে। এমন মিষ্টি-মধুর শীতের আমেজ পেয়ে কৃষকরা এখন পুরোদমে বোরো ধান রোপণ করছেন।

সদর উপজেলার চৌগাছা গ্রামের ইব্রাহিম শেখ বলেন, ‘আমি ১৮০ শতক জমিতে বোরো ধান রোপণ করছি। আপাতত ধানের চারা বা ‘পাতো’ (নড়াইলের আঞ্চলিক ভাষায় চারাকে পাতো বলা হয়) কোনো সংকট নেই।’

একই গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, ‘তিন একর জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। শীতের শুরুতে কিছু সমস্যা হলেও এখন পরিবেশ খুব ভালো। বর্তমানে সার, কীটনাশক ও সেচের কোনো সমস্যা নেই।’

৭৫ বছর বয়সী বাদশা শেখ বলেন, ‘জমি চাষ করে মই দিয়ে সমতল করে ধান লাগানোর কাজ করছি।’

মোহাম্মদ মোরাদ বলেন, ‘আগে গরু দিয়ে চাষাবাদ করা হলেও এখন পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। এতে সময় কম লাগে, খরচও তুলনামূলকভাবে কম।’

সাগর শেখ বলেন, ‘আমি ১৩৫ শতক জমিতে রডমিনিকেট ধান রোপণ করছি। এ জাতের ফলন ও বাজারদর ভালো। ভাত খেতেও সুস্বাদু। খড় বা বিছালিও খুব ভালো হয়।’

এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা জানান, বোরো মৌসুমের শুরুতে সার, কীটনাশক ও বিদ্যুৎচালিত সেচের কোনো সংকট নেই। মৌসুমের শেষপর্যন্ত আবহাওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে কৃষকদের পরিশ্রম সার্থক হবে এবং সোনালি ফসল ঘরে উঠবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘২০২৫-২৬ বোরো মৌসুমে নড়াইলে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে আবাদ হয়েছিল ৫০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে এবং ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৫০ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে। সে হিসেবে বিগত তিন বছরের ব্যবধানে নড়াইলে ৬৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশই আদর্শ বীজতলা। ফলে বীজতলা নিয়েও কোনো সংকট নেই।’

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি