image

পরীক্ষায় জালিয়াতি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন রাবির সিনেট সদস্য আকিল বিন তালেব

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন নির্বাচিত সিনেট সদস্য আকিল বিন তালিব। গতকাল( ২ ফেব্রুয়ারী) সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনে তার পরীক্ষার হলে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী শাস্তির বিধান থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা যায়, গতকাল সোমবার আইন বিভাগের মাস্টার্সের ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটি ল’ কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই বর্ষের শিক্ষার্থী আকিল বিন তালিবও অংশ নেন। পরীক্ষায় তিনি আগের একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের পেছনের অংশে কিছু সম্ভাব্য উত্তর লিখে নিয়ে যান। পরে সেটির সাহায্যে উত্তর করার সময় পরীক্ষার পরিদর্শক অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলামের কাছে আটক হন। তখন পরীক্ষার বাকি ছিল আর ১৫ মিনিট। তারপর তাকে আর লিখতে দেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী এমন ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে যে শিক্ষক আটক করেন, তিনি বাদী হয়ে বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন। তবে অধ্যাপক মোর্শেদুল এমন কোনো অভিযোগ করেননি।

ওই পরীক্ষায় প্রধান পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন, বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আলীম। এ ছাড়াও পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম ও অধ্যাপক আনিসুর রহমান।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার বলেন, ‘আমি মাস্টার্সের একটি চূড়ান্ত পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করি। পরীক্ষাটি শেষ হওয়ার সময় ছিলো ১ টা ৩০মিনিটে। তবে ১ টার কিছু পরেই আমার কাছে কেমন যেন আকিল বিন তালিবকে সন্দেহ হয়। পরে তার পাশের পরীক্ষার্থীরকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাই। তবুও বিষয়টি আমার কাছে পরিষ্কার হয় না। পরে আকিলের সাথে থাকা কাগজপত্র একটু পর্যবেক্ষণ করি। তার কাছে একটি আগের দিনের প্রশ্নপত্র ছিলো। পরে সেটা আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগে। তখন সেটি ভালো করে সার্চ করে বুঝতে পারি তিনি আগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের পেছনের পুরো পাতা লিখে নিয়ে এসছেন। আমি তৎক্ষনাৎ প্রধান পরিদর্শককে জানাই এবং তার উত্তরপত্রটি নিয়ে নিই।’

নিয়মানুযায়ী তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আকিলের বিষয়টি ধরার পরেই তিনি আরেক পরিদর্শক অধ্যাপক আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। অধ্যাপক আনিসুর রহমান প্রশ্নের পেছনে থাকা উত্তরটি কেটে দিতে বলেন এবং আমাকেও কোনো আবেদন করতে নিরুৎসাহিত করেন। এ ছাড়াও এই প্রশাসনের সময়ে আগেও কোনো অভিযোগ করে কোনো সুষ্ঠু তদন্ত বা সুরাহা পাইনি। তাই আমার আর এই বিষয়ে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, ‘তার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি একজন শিক্ষার্থীকে জালিয়াতির অভিযোগে আটক করেছেন, তারই প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করার কথা ছিলো। তিনি সেটি না করে আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। আমি এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমার কোনো সম্পৃক্তা নেই।’

এ দিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি স্বীকার করে আকিল বিন তালিব বলেন, ‘অভিযোগটি অনেকে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা করছেন। মূলত আমি আমার আগের একটি প্রশ্নের পেছনে একটি রেফারেন্স ও কয়েকটি ধারা লিখে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি পুরো পাতাজুড়ে কোনো কিছু লিখে নিয়ে যাইনি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি