রংপুরের পীরগাছায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সরকারি সম্পত্তি দখল করে অবৈধ কাঁকড়া (ট্রাকটর) চলাচলের রাস্তা নির্মাণসহ বসতবাড়ির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ওই রাস্তা নির্মাণের ফলে বাঁধের রাস্তা চরম হুমকিতে পড়বে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি জমি দখল করলেও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দখলদারদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুশ্বর মৌজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে জ্ঞানগঞ্জ পর্যন্ত বাধের রাস্তার পশ্চিম ধার দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন জমি স্থানীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে দখল হচ্ছে।
স্থানীয় অভিযোগ, দিন-দিন দখলের পরিমাণ যেমন বাড়ছে, তেমনি দখলদারদের প্রভাবও ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম কেউ অনুমতি নেননি। তবে শুনেছি অনুমতির আবেদন করবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ বসাক বলেন, আমার জানা নেই, তবে খোজ নিচ্ছি। অবৈধভাবে দখল করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জমির মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড হওয়ায় উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব তাদেরই।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, দখলকারীরা যদি আবেদন করেন তাহলে অনুমতি দেয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পুরো এলাকা দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।
স্থানীয় রেজাউল করিম বলেন, জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের হলেও কিছু মানুষ কৃষি ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ্ করে আসছি। এই অবৈধ দখলের ফলে একদিকে আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবো। অপরদিকে পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতি হবে।
স্থানীয় আব্দুল হামিদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি সম্পত্তির সাথে আমার নিজ নামীয় রেকডীয় জমি চেয়ারম্যান নাজির হোসেনের হুকুমে দখল করতেছে। বর্তমানেও ৮/৯ জন গ্রাম পুলিশ লাঠি নিয়ে আছে, আর আমরা জীবনের ভয়ে বাঁধা দেয়া তো দূরের কথা এলাকায় যাইতে পারতেছি না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ড. সরফরাজ বান্দা বলেন, জমি দখল-বেদখলের বিষয়ে আমার কিছু করার নেই, নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম পুরা বিষয়টি দেখ-ভাল করবেন। আমার কাজ শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বোর্ড আর মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা।
পাহাড়ার দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশ হাবীবুর রহমান বলেন, উপস্থিত এলাকার কিছু লোকের নিকট টাকা কালেকশন করে মাটি কাটা হচ্ছে, চেয়ারম্যান বলেছেন, পরবর্তীতে কোন প্রকল্প দিয়ে পুশিয়ে দিতে চেয়েছেন।
চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, সরকারি প্রকল্প দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে কোন প্রকল্প দিয়ে কাটা হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
সারাদেশ: দশমিনায় সেনাবাহিনীর মতবিনিময় সভা