টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশুশিক্ষার্থী মারিয়ার পরিবারের পাশে দাড়িছে ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরজাহান আক্তার সাথী নিহত শিশুশিক্ষার্থী মারিয়ার গ্রামের বাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের বারইপাড়াতে যান তিনি।
তিনি নিহত মারিয়ার মা ও বাবা সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। শিশু মারিয়ার বস্তাবন্ধি লাশ উদ্ধারের সেই পরিত্যক্ত ঘরটি পরিদর্শন করেন তিনি।
এসময় ধনবাড়ী হর্টি কালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ও যদুনাথপুর ইউনিয়নের প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা রাসেল পারভেজ তমাল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শওকত হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুবোধ মন্ডল, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনটিভি’র সাংবাদিক হাফিজুর রহমান, যদুনাথপুরের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান, বাবুল আখতার ও আব্দুল্লাহসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত শিশু শিক্ষার্থী মারিয়ার আসহায় পরিবার কে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল সরকারী সেবা প্রদানের আশ্বাস দেন। সেই সাথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।
নিহত শিশু শিক্ষার্থী মারিয়ার বাবা উজ্জল হোসেন কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান, দুনিয়ার ভালো মন্দ বুঝার আগেই মানুষ নামের হায়ানা দলের হাতে নির্মম হত্যার শিকার হতে হয়েছে। তিনি এই হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবী করেন।
এ ঘটনায় মারিয়ার স্কুলের কোন শিক্ষক কোন প্রকার খোঁজ খবর না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহত মারিয়ার পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর যদুনাথপুরের বারইপাড়া এলাকায় বাড়ি থেকে গত ২৬ জানুয়ারি নিখোঁজ শিশু শিক্ষার্থী গত রবিবার মারিয়ার বস্তাবন্দি মরহেদ পাশের বাড়ির একটি পরিত্যাক্ত ঘরের ভিতরের স্টীলের বক্স থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম ও ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি নুরুস সালাম সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান করে ৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
এছাড়াও লাশ উদ্ধার দিন আরো ২ জনসহ মোট ৫ জন কে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে ঘটনার তদন্ত স্বার্থে বলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধনবাড়ী থানার ওসি নূরুস সালাম সিদ্দিক।