শ্রমিক ও কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ পণ্য ওঠানামার সব যন্ত্রপাতিও বন্ধ রয়েছে। কর্মবিরতির কারণে নতুন কোনো জাহাজ ভিড়তে পারেনি। বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা বেড়ে ৯৬টিতে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টা ধরে পণ্য ডেলিভারি বন্ধ থাকায় বন্দর এলাকার ভেতরে ও বাইরে হাজার হাজার ভারী যানবাহন আটকা পড়েছে। যানজট এড়াতে কর্তৃপক্ষ নতুন করে কোনো গাড়ি ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না।
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাই ভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে টানা তিন দিন ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা।এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে শুরু হয় ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক কর্মবিরতি। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির পর বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচিতে রূপ নেওয়ায় বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আমদানি পণ্য খালাস ও রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের জন্য আসা হাজার হাজার ট্রাক আটকা পড়েছে।
রমজানের আগে ভোগ্যপণ্যবাহী অনেক কন্টেইনার আটকে পড়ায় বাজারে পণ্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এনসিটি ইস্যুতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে এই নজিরবিহীন সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। যা দেশের অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আমদানিকারকরা বলছেন, পণ্য খালাসে দেরি হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত স্টোর রেন্ট বা মাশুল গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় অর্ডার বাতিল ও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন রপ্তানিকারকরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঢাকায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কার্যালয়ে বন্দর কর্মকর্তাদের আটকে রেখে চাপের মুখে চুক্তি সই করানোর চেষ্টা চলছে। তাদের ভাষ্য, এনসিটি ইজারা দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত সরকার বাতিল না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি চলবে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের সমন্বয়কদের দাবি, শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।