image
গাইবান্ধা : চলতি রবি মৌসুমে জেলার চরাঞ্চলে ব্যাপক গমের চাষ হয়েছে -সংবাদ

গমের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীবেষ্টিত বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এখন সবুজে শ্যামলে ভরপুর। এক সময়ের ধূ-ধূ বালুচরে এখন বাতাসে দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। চলতি রবি মৌসুমে জেলার চরাঞ্চলগুলোতে গমের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে মাইলের পর মাইলজুড়ে গমের ক্ষেত। বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদরের মোল্লার চর, কামারজানি এবং ফুলছড়ির এরেন্ডাবাড়ি, সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ও দিঘলকান্দি চরের জমিগুলোতে গমের সমারোহ চোখে পড়ার মতো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও গমের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে গম চাষ হয়েছে, যার সিংহভাগই চরাঞ্চলে।

দিঘলকান্দি চরের কৃষক নুর ইসলাম প্রামানিক জানান, বোরো ধানের তুলনায় গম চাষে সেচ ও সারের খরচ অনেক কম। এছাড়া চরের বেলে মাটিতে অন্য ফসলের চেয়ে গম ভালো হয়। বাজারে ভালো দাম এবং গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ভুষির চাহিদা থাকায় তারা গম চাষে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে কামারজানি চরের কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আগে চরের জমিতে তেমন কিছু হতো না। কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার ৫ বিঘা জমিতে গম বুনেছি। ক্ষেতের অবস্থা খুব ভালো, আশা করছি লাভবান হবো।’

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, চরাঞ্চলের মাটি গম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ (যেমন: বারি গম-৩০, ৩৩) এবং সার দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এবার হেক্টর প্রতি ৩.৫ থেকে ৪ মেট্রিক টন ফলন হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।

নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত এই অঞ্চলের মানুষের জন্য গম চাষ নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক বাজারমূল্য পেলে চরাঞ্চলের এই ‘সবুজ বিপ্লব’ জেলার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি