image
রাজশাহী : ঘোড়ার গাড়ি -সংবাদ

সভ্যতার চাকা থেমে যায় নদীর কিনারায়

জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী

পদ্মার বিশাল জলরাশি আর ধূ-ধূ বালুচরের বুক চিরে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর গল্প যতটা সংগ্রামের, ঠিক ততটাই অবহেলার। ঋতু বদলায়, কিন্তু বদলায় না রাজশাহীর বাঘার এই বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য। পদ্মার বুক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা চর যেন একেকটি নিঃশব্দ জনপদ যেখানে সভ্যতার চাকা থেমে যায় নদীর কিনারায়। পাকা রাস্তা নেই, সেতুর ছায়া নেই, কলেজ নেই আধুনিক যাতায়াতের কোনো চিহ্ন নেই; অথচ জীবন থেমে নেই। এই চরে মানুষের দিন শুরু হয় ঘোড়ার গাড়ির টগবগ শব্দে, আর শেষ হয় নদীর ¯্রােতের সঙ্গে লড়াই করে।

রাজশাহীর বাঘায় বিচ্ছন্ন পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিযনের চরের মানুষ শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি ও বর্ষা মৌসুমে নৌকায় মালামাল বহন করে। চরে রাস্তা না থাকায় এলোমেলোভাবে মালামাল বহন করে। চরের মানুষ অনেকে ঘোড়ার গাড়ির উপর জীবিকা নির্বাহ করে।

এদিকে বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর ক্যানেলের ওপর শিমুলতলাঘাট, চাঁদপুরঘাট, পালপাড়াঘাট, সরেরহাটঘাট, খায়েরহাট ক্লাবেরঘাট, খায়েরহাট হালিম মাস্টারেরসহ ছয়টি ঘাট রয়েছে। এই ঘাটের যেকোনো স্থানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সহজেই উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবেন।

পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়ন। এখানে চকরাজাপুরচর, কালীদাসখালী, লক্ষ্মীনগর, দাদপুর, উদপুর, পলাশী ফতেপুর, ফতেপুর পলাশী, নিচ পলাশী, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, মানিকের চরসহ ১৫টি চর রয়েছে। এ চরের মানুষ বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি বা বাঁশের সাঁকো আবার কখনো পায়ে হেঁটে পারাপার হন। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় পার হতে গিয়ে অনেকেই পদ্মায় নিখোঁজ হয়েছেন, আবার অনেকেই মারাও গেছেন।

পদ্মার মধ্যে ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোনো উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ নেই। এ কারণে সেখানকার শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পাশ করার পর যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে লেখাপড়াই বন্ধ করে দেয়।

মানিকের চরের ঘোড়ার গাড়ির মালিক শেখ কামাল হোসেন বলেন, চরে বিভিন্ন ধরনের ফসষের চাষ হয়। বর্তমান প্রচুর পরিমাণে আলুর চাষ হয়েছে। শুকনো মৌসুমে বস্তাাপ্রতি ২০-৫০ টাকা দরে মাঠ থেকে বাড়ি পৌঁছে দিই। প্রতিদিন যা আয় হয়, ৬ সদস্যের সংসার ভালভাবে চলে।

গতকাল বুধবার বিকালে পদ্মা নদীর ঘাটে কথা হয় চকরাজাপুর চরের চৌমাদিয়া চরের সাবেক মেম্বার আবদুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, শুকনো মৌসুমে মাঠ থেকে মালামাল তুলে ঘোড়ার গাড়িতে করে আনা ছাড়া কোন উপায় নেই। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। বর্ষা ও শুষ্ক উভয় মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি বা পায়ে হেঁটে ঘাটে আসতে হয়। এরপর পদ্মা পার হতে হয়।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» টাঙ্গাইল-৬ দেলদুয়ার ৫৮টি ভোটকেন্দ্রের ৪৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ

সম্প্রতি