দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসছে। একারণে কেশবপুরকে আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় লড়াইটা মূলত জমে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতকে ঘিরে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট যার পাত্রে পড়বে তার জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে ভোটারদের অভিমত।
কেশবপুর পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন গঠিত। এ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমেছেন। তারা হলেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির জিএম হাসান (লাঙ্গল) ও এবি পার্টির ব্যারিস্টার হাসান মাহমুদ (ঈগল)। ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হয়। ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই তাদের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গোটা নির্বাচনী এলাকা ছুটে বেড়াচ্ছেন। পুরো নির্বাচনী মাঠজুড়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা, কুশল বিনিময়সহ করছেন মিছিল, মিটিং, গণসংযোগ ও পথসভা। বিএনপি-জামায়াত দুই প্রার্থীর মধ্যে কে জিতবেন তা নিয়ে চায়ের দোকানগুলোতে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী প্রয়াত এএসএইচকে সাদের বিজয়ী হন। এরপর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ আসনে আওয়ামী লীগের একছত্র অধিপত্য থাকায় কেশবপুরকে আ‘লীগের ঘাটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবারের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। যে কারণে নির্বাচনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রার্থীদের মধ্যে লড়াইয়ের আভাস মিলেছে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ এনিয়ে তিনবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আগের দুই নির্বাচনে তিনি আ‘লীগের প্রার্থীর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। এলাকায় তিনি দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি কেশবপুর শহরের কামিল মাদ্রাসার পাশে নিজের জমিতে নিজ অর্থে শাহী মসজিদ নির্মাণ করাসহ হাজী মোতালিব মহিলা কলেজের জমি দাতা, শহরে তার জমির ওপর পুরোনা কাপড়ের মার্কেট অবস্থিত।
যা আজাদ মার্কেট নামে পরিচিত। সেখানে শতিাধিক ব্যবসায়ী ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও তিনি কখনও তাদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করেন না। এছাড়া এ উপজেলার বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরে তিনি অর্থ সহযোগিতা দিয়েছেন। এআসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে তার ত্যাগ অনেক বেশি। একারণে ভোটারদের কাছে তার যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী দীর্ঘদিন কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। এবার তিনি প্রথম বারের মত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মতাদর্শের লোকদের মধ্যে মূলত তার রাজনীতিই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমান গতি কিছুটা বাড়লেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম তাদের ভোটে ভাগ বসানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সবদিক বিবেচনায় এ আসনে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
আন্তর্জাতিক: ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্রেপ্তার
আন্তর্জাতিক: এরদোয়ান-সিসি বৈঠক: অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর
অর্থ-বাণিজ্য: স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, রুপার দামও ঊর্ধ্বমুখী
অর্থ-বাণিজ্য: নিলামে ১৭১ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করল বাংলাদেশ ব্যাংক
অর্থ-বাণিজ্য: ৪০ কোটি টাকা লোকসান করেছে আরএকে সিরামিকস