image

ঝালকাঠির দুটি আসনেই ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি-জামায়াত

জেলা বার্তা পরিবেশক, ঝালকাঠি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনে ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি এবং জাময়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সঙ্গে। দুটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। ভোটাররা চাইছেন সৎ, যোগ্য ও ভালো মানুষকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে দশজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামাল (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ড. ফয়জুল হক (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদি (হাতপাখা), স্বতন্ত্র সাব্বির আহমেদ (মোরগ), জেএসডির সোহরাব হোসেন (তাঁরা), জনতার দলের জসিম উদ্দিন তালুকদার (কলম), জাতীয় পার্টির কামরুজ্জামান খান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র এম মঈন আলম ফিরোজী (হাঁস), গণ অধিকার পরিষদের শাহাদাত হোসেন (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টি জেপির রূবেল হাওলাদার (বাইসাইকেল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এদিকে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে যারা নির্বাচন করছেন তাঁরা হলেন, বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেখ নেয়ামুল করিম (দাড়িপালা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (হাতপাখা), স্বতন্ত্র সৈয়দ রাজ্জাক আলী (মোটরসাইকেল), গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর (ট্রাক), জেএসডির মাসুদ পারভেজ (তাঁরা), স্বতন্ত্র নুরউদ্দিন সরদার (কলস) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফোরকান হোসেন (আম)।

ঝালকাঠির দুইটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক মাঠে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় কর্মকান্ড জনসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতায় অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর তুলনায় বিএনপির অবস্থান শক্ত বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশেষকরা। তবে তাদের সঙ্গে মূল লড়াই হবে ১০ দলীয় জোট জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর।

ঝালকাঠির দুইটি আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৮২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৭জন, নারী ২ লাখ ৯১ হাজার ৯৪৫জন, তৃতীয় লিঙ্গের চারজন ভোটার।

ঝালকাঠি-১ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ জন, নারী ১ লাখ ১২ হাজার একজন। তৃতীয় লিঙ্গের রয়েছেন দুজন ভোটার। ঝালকাঠি-২ আসনে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫০জন, নারী ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪৪ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন দুইজন।

ঝালকাঠি-১ আসনের নতুন ভোটার ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি এ বছর নতুন ভোটার। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, এখানে আমি আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবো। আমি চাই যিনি এলাকার উন্নয়ন করবেন, সন্ত্রাসমুক্ত রাখবেন, টেন্ডারবাজি করবেন না, মামলাবাজ হবেন না, তাকেই ভোট দিব।

ঝালকাঠি-২ আসনের ভোটার মিজানুর রহমান বলেন, আমি এর এগে তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। কেন্দ্রে গিয়ে দেখেছি, আমার ভোট অন্যরা দিয়ে দিয়েছেন। এই ভোট ডাকাতি এবার বন্ধ হয়েছে। আমি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। এ নির্বাচনে আমি যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে চাই।

ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি দেশের মানুষ জিয়াউর রহমানকে ভালোবেসে ১৯৯০ সালে নজিরবিহীন একটি সুস্থ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় নিয়েছেন ঠিক তেমনি আগামী নির্বাচনেও বিএনপিকে ক্ষমতায় নেবেন। আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ চাই, আমরা একটি সুশাসনের রাষ্ট্র চাই, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাষ্ট্র চাই। আমি এমন একটা দলের অংশ হতে পেরে আত্মতৃপ্তি পাচ্ছি। আগামী দিনে বাংলাদেশে নতুন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে তার একজন সৈনিক হিসেবে আমার অবদান থাকবে।’

জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘ঝালকাঠি-১ আসনের জনগণ বসে আছেন সত্যের পক্ষে, দেশপ্রেমিক জনতার পক্ষে রায় দেয়ার জন্য। এ অঞ্চলের সকল দল-মতের মানুষরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবারের ভোট দাঁড়িপাল্লায় হবে।’

এদিকে ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বলেন, ‘ঝালকাঠির-২ আসনের সোনার মানুষরা আমাকে ক্ষমতা দিলে আমি সবসময় তাদের পাশে থাকব। কারণ, আমি তাদের ভালোবাসা পেয়েছি। দেশনায়ক তারেক রহমান যদি আগামীতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়, দেশের ভাগ্যোন্নয়ন হবে। আমরা বিশে^র বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো। তাই আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে এ আসন উপহার দেয়ার জন্য ভোটার প্রতি আহ্বান জানাই।

জামায়েতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম বলেন, ‘ঝালকাঠি একটি নদী বন্দর প্রাচীন বাণিজ্যিক জেলা। অথচ এই জেলার তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাছাড়া নলছিটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় পৌরসভা এখানেও তেমন উন্নয়ন হয়নি। এখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নদী ভাঙন। এই নদী ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। প্রথম কথা হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিটি পয়সার হিসাব জনগণের কাছে পৌঁছাবো যাতে করে কোনো অন্যায়, দুর্নীতি বিন্দুমাত্র হওয়ার আশঙ্কা না থাকে।’

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ভোট যাতে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» টাঙ্গাইল-৬ দেলদুয়ার ৫৮টি ভোটকেন্দ্রের ৪৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ

সম্প্রতি