চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান আন্দোলন দুদিনের জন্য স্থগিত ঘোষণার পরপরই ১৫ শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছে কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক চিঠিতে এই আবেদন জানানো হয়েছে।
চিঠিতে, আন্দোলনের সময় প্রেষণে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা যথাক্রমে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকনের নাম রয়েছে। তালিকায় থাকা অন্যেরা হলেন, মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।
জানা যায়, আবেদনে ওই ১৫ জন শ্রমিক নেতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন সে জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। এর অনুলিপি দেওয়া হয়েছে নৌপরিবহন উপদেষ্টার দপ্তর, দুদক এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালকের কাছেও।
এর আগে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপিওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে চলমান আন্দোলন কর্মসূচির ষষ্ঠ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার(৫ ফেব্রুয়াী) চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
এদিকে, এদিন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপিওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের বিষয়ে নৌ উপদেষ্টার সাথে বৈঠক কওে আন্দোলনকারীরা। যদিও এ সময় চুক্তি প্রক্রিয়া বাতিল করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি তিনি। উল্টো প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, নৌ উপদেষ্টা অবস্থান থেকে সরে না আসলে রোববার থেকে আবার কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে তিন দিন আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।