শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তুলতে দিনাজপুরে প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রমধর্মী সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বিষয়ক অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ৪০ জন শিক্ষককে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে অ্যাডভান্সড কমিউনিকেশন শেখানো হয়। যেমন- দৈনন্দিন কথোপকথন, শব্দ ও বাক্য গঠন, অঙ্গভঙ্গি ও অভিব্যক্তির সঠিক ব্যবহার।
শুক্রবার, (০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) দিনাজপুর ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ডিআইএসটি) আয়োজনে অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষ হয়।
আয়োজকদের মতে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব জীবনে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও সহজ ও কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন।
এর আগে ডিআইএসটি ক্যাম্পাসে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এসএম হাবিবুল হাসান।
ডিআইএসটির অধ্যক্ষ মো. মামুনুর ফেরদৌসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিআইএসটির প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুর রশিদ, দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আব্দুল ওয়াদুদ মন্ডল, সৈয়দপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সংযুক্ত কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম হাসান।
প্রশিক্ষক ছিলেন ঢাকার প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের স্পেশাল এডুকেটর আসমা আহমেদ এবং ঢাকার সিএসআইডি এর অ্যাসি¯ট্যান্ট কোঅর্ডিনেটর আশেক আলী।
উদ্বোধনী দিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, প্রতিবন্ধীরা আমাদের বোঝা নয়। সমাজের প্রতিটি শিশু রাষ্ট্রের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শিক্ষা, দক্ষতা ও যোগাযোগ সক্ষমতা বাড়াতে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে ডিআইএসটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাহমুদুর রশিদ বলেন, প্রতিবন্ধীদের মেধাকে বিকশিত করার চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করেছি। তাদের দক্ষতা বাড়াতে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক শিক্ষক বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ কীভাবে গড়ে তুলতে হয়, সে বিষয়ে আমাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যাতে তারা আমাদের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারে এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশে আগ্রহী হয়, সেই যোগাযোগ দক্ষতাই এখানে শেখানো হয়েছে।
ডিআইএসটির অধ্যক্ষ মো. মামুনুর ফেরদৌস বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরবর্তী পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের কেউ শুনতে পারে না, কেউ আবার কথা বলতে পারে না। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। তবে শিক্ষকদের সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বিষয়ে পূর্বে কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।