চায়ের চুমুকে বইছে নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ। ভোটাররা ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ, ভোলা-বরিশাল সেতু ও মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন যিনি পূরণ করতে পারবেন, সেই প্রার্থীকেই এবার ভোট দেবেন তারা। আসন্ন নির্বাচনে তাই ভোলা-১ আসনের ভোটারদের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে উন্নয়নের স্পষ্ট রূপরেখা ও বাস্তব উদ্যোগের ওপর। ভোলা জেলা ভাসছে গ্যাসের উপর। মাটির নিচে অলস পড়ে আছে গ্যাস। অথচ গৃহস্থালি কাজে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেছে ভোলা বাসি। সাধারণ ভোটারা জানান, আমাদের মজুত গ্যাস আমাদের ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে না সরকার। তাই যিনি গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ করে দেবেন, তাকেই সমর্থন দেব।
ভোটাররা জাসান, বিগত সরকারের সময় ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। এই একটি সেতুর মধ্য দিয়ে এই দ্বীপজেলার আমূল পরিবর্তন সম্ভব। তাই যিনি সেতু নির্মাণ করে দেবেন, তাকেই এবার ভোট দেব। ওই সেতু নির্মাণ হলে যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের মানুষ সহজে চট্টগ্রাম যেতে পারবেন। ভোলা-বরিশালের দূরত্ব ৩ ঘণ্টার পরিবর্তে ২৫ মিনিটের হবে। এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। মুমূর্ষু অবস্থায় যে কোনো রোগীকে জেলা সদরের ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আনা হলেই বরিশাল বা ঢাকায় পাঠানো হয়। পথেই মারা যান ওইসব রোগী। এটি প্রতিদিনের ঘটনা। তাই এবারের নির্বাচনে যিনি এখানে মেডিকেল কলেজ করে দেবেন, তাকেই ভোট দেবেন এ অঞ্চলের মানুষ। ভোলা-১ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ (গরুর গাড়ি)। তিনি জোটের শরিক দল হিসেবে এখানে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা)। দুই প্রার্থীই ওই তিন দাবি পূরণের আশ্বাস দিচ্ছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওবায়দুর রহমান (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান (ট্রাক), জাতীয় পার্টির মো. আকবর হোসাইন (লাঙ্গল), ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশ্রাফ আলী ও স্বতন্ত্র রফিজুল হোসেনসহ সব প্রার্থীরা ওই তিন দাবি পূরণের ভোটারদের আশ্বস্ত করেন।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ