নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গয়াবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শাখার ৩ জন কথিত কর্মচারী ও ৫ জন শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়েই শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে কলেজ মাঠে প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়, যা শিক্ষা প্রশাসনের নিয়ম-নীতির পরিপন্থি।
জানা গেছে, গয়াবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা সংযুক্ত হওয়ায় এর নামকরণ হয় গয়াবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজ। তবে সম্প্রতি কলেজ শাখার তিনজন কর্মচারীকে ও ৫ জন শিক্ষককে কথিত নিয়োগকে ঘিরে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিভক্তি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ প্রকাশ্যে চলে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিষ্ঠান খোলা থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে কলেজ মাঠে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এলাকাবাসী আরও জানান, কলেজ শাখার অধ্যক্ষ পদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন সরকার এবং কলেজ শাখার সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামান ও ফিরোজুল ইসলাম-এর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সাম্প্রতিক ঘটনার পেছনে সেই অভ্যন্তরীণ বিরোধই প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে গয়াবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন সরকার বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকার কারণে আমি সেদিন উপস্থিত থাকতে পারিনি। সেই সুযোগে উল্লেখিত দুজন শিক্ষকসহ শামসুল আলম, গোলাম মোস্তফা ও হুমায়ারা বেগম ও সাদেকুল আলম সরকারকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে আমার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে। বিষয়টি আমি গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে গয়াবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠান চলাকালীন শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।