১৫ বন্দর কর্মীর বদলি প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলন

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ জন শ্রমিক-কর্মচারীর বদলির আদেশ, তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব তদন্তের নির্দেশ প্রদানের কারণে বন্দর কার্যক্রম আবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এসব নির্দেশ প্রত্যাহার না হলে পুনরায় আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ওই শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের উৎস ও পরিমাণ তদন্তের জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-কেও অবহিত করা হয়।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ১৫ জন হলেন- চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ুন কবির, মো. ইব্রাহিম খোকন, ফরিদুর রহমান, মো. শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবির, মো. শাকিল রায়হান, মানিক মাঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২ ফেব্রুয়ারি তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সম্পদের উৎস যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এ বিষয়ে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বন্দরে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও দেশের ক্ষতি করার অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের তালিকা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের দপ্তর সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, বদলির আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

বিএনপিপন্থি শ্রমিক নেতা এস কে খোদা তোতন বলেন, ‘লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়া হবে না। বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়ায় আন্দোলন চলমান থাকবে।’

আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবির জানান, আন্দোলন আপাতত দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে পুনরায় আন্দোলন শুরু হবে। তিনি বদলির আদেশ প্রত্যাহার ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে ৪ জেলায়

» গয়াবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ডিমলায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে সাংবাদিক সম্মেলন

» ডিমলায় প্রশাসনিক ক্ষমতা পেলেন প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মাসুদ

সম্প্রতি