রাজশাহীর বাগমারায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পক্ষে কথা বলায় আওয়ামী লীগ নেতাদের মারধর করা পৃথক দুইটি ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাদের মোটরসাইকেল ও দোকান ভাঙচুর করা হয়। উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের সাদোপাড়া ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর গাঙ্গোপাড়া এ পৃথক দুটি ঘটনা ঘটে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পৃথক ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের সাদোপাড়া গ্রামে জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারীর পক্ষে কথা বলায় আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলামকে (৪৮) স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মারধর করে। এ সময় তার দুই ভাতিজাও হামলার শিকার হন। তাদের আহত অবস্থায় তাহেরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। আহত আওয়ামী লীগের নেতা মুহিদুল ইসলাম শ্রীপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি সাদোপাড়া গ্রামে। পেশায় তিনি একজন পল্লিচিকিৎসক।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় মুহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সাদোপাড়া ডাকঘরের সামনে এলে একই গ্রামের বিএনপির কর্মী চার থেকে পাঁচজন মুহিদুল ইসলামের পথ আটকায়। বিএনপির কর্মীরা তার বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তোলেন এবং কেন তিনি আওয়ামী লীগের লোকজনকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার কথা বলেছেন, তা জানতে চান। মুহিদুল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তখন বিএনপির কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন এবং একপর্যায়ে লাঠি ও রড নিয়ে তার ওপর আক্রমণ করেন। চিৎকার শুনে তার দুই ভাতিজা খায়রুল ইসলাম (২৩) ও রাতুল ইসলাম (১৭) ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এই সময় তাদেরও মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে চলে যান। পরে তিনজনকে উদ্ধার করে তাহেরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসার পর তারা বাড়ি ফিরে আসেন।
আহত খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়েছে। বাম হাতে আঘাত পেয়েছি, ভেঙে গেছে। মামলা করলে আরও সমস্যা হবে, তাই মামলা করবো না।’
তিনি বলেন, ‘তার চাচা মহিদুল পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক। রোগীদের চিকিৎসার সুবাদে জামায়াত প্রার্থী ডা. বাবীর সঙ্গে চাচার আগে থেকে জানা-শোনা রয়েছে। ডা. বারীর ক্লিনিকে রোগী পাঠাতেন। এ সুবাধে তার ভালো দিক তুলে আগের দিন চায়ের দোকানে কথা বলেছিলেন। এ অপরাধে তাদের পেটানো হয়েছে।’
শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাম পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল নির্বাচনবিরোধী উসকাানিমূলক কথা বার্তা বলছিল। তাই ক্ষদ্ধ জনগন তাকে সামান্য চড়-থাপ্পড় দিয়েছে। এটি আমি এলাকার পরিস্থিতি ঠা-া রাখার চেষ্টা করছি।’
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কথা বলায় উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর গাঙ্গোপাড়া বাজারে এনামুল হক (২৭) নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে মারধর করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার চাচা মোজ্জাম্মেল হককে মারধর ও চায়ের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। বিএনপি প্রার্থীর ফেস্টুন ছেড়ার অভিযোগে তাদের মারপিট করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে বিএনপির সমর্থক শান্ত (২২) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে তেলিপুকুর গাঙ্গোপাড়া বাজারের চাচার চায়ের দোকানে বসে ছিল এনামুল হক (২৭)। রাত সাড়ে আটটার দিকে ধানের শীষের স্থানীয় দুই সমর্থক শান্ত (২২) ও আবদুল হামিদ (৪৪) বাজারে লাগানো বিএনপির প্রার্থীর ফেস্টুন ছেড়ার জন্য এনামুল হককে দায়ী করেন। বাগবিত-ার এক পর্যায়ে চা-দোকানি এনামুল হককে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে তার বুক ও হাঁটুতে আঘাত লাগে এবং রক্তপাত হয়। এ সময় তার চাচা মোজাম্মেল হক এগিয়ে এলে তাকেও পেটানো হয়। এ সময় দোকানের জগ, চেয়ার, টেবিলসহ মালামাল ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার সময় বিএনপি কর্মী শান্তও আহত হন। তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে জামায়াতের লোকজন ঘটনাস্থলে এলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ভবানীগঞ্জের জামায়াত প্রার্থীর ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে।
আহত এনামুল হক অভিযোগ করেন বলেন, পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা করা হয়েছে। কোনো ফেস্টুন ছেড়া হয়নি এবং কাউকে ছিড়তেও দেখেননি। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চাওয়ায় তাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, ‘আবার বড় চাচা মঞ্জুর রহমান পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক। তিনি জামায়াত প্রার্থী ডা. বারীর ক্লিনিকে রোগী পাঠান। সে কারণে তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। সে সুবাধেই আমরা ডা. বারীর পক্ষে কথা বলেছিলাম। তার চাচা মঞ্জু এক সময় গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। এখন কোনো পদে নেই বা দলও করেন না।’
বিএনপির গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম বলেন, ‘ফেস্টুন ছেড়া নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে আমাদের (বিএনপির) কোনো অভিযোগ নেই, জামায়াতেরও অভিযোগ নেই। উভয়ের মধ্যে একটা ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে।’
বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম জানান, ‘নির্বাচন কেন্দ্রিক পৃথক দুইটি ঘটনা ঘটেছে। গাঙ্গোপাড়া বাজারের ঘটনায় মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে মামলা করেছে। ওই মামলায় শান্ত নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর সাদপাড়ার অন্য ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।’
অর্থ-বাণিজ্য: শেয়ারবাজারে সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে ১৫ শতাংশ
অর্থ-বাণিজ্য: আবার বাড়লো সোনার দাম