রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন-সদর) আসন! তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী ওই আসনে ‘হরিণ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। গতকাল শনিবার হঠাৎ করেই ভোট থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি।
জানা য্য়া, সংসদে তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত আসনের দাবি জানিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশের একমাত্র হিজড়া সংসদ সদস্য প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী।
নির্বাচন থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর অন্য কোনও কারণ উল্লেখ না করলেও রানী ভোটারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “আমি কারও কাছে বিক্রি হইনি। আমার এই সিদ্ধান্তে যারা কষ্ট পেয়েছেন তাদের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী। তবে আমি কথা দিচ্ছি, নির্বাচন না করলেও আমি আগের মতোই আপনাদের পাশে থাকবো।”
রানী বলেন, “সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ১৫টি থেকে বেড়ে বর্তমানে ৫০টিতে পৌঁছেছে। এর ফলে নারীরা রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছেন। কিন্তু এই ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে আমাদের মতো হিজড়া সম্প্রদায়, আদিবাসী বা হরিজনদের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কোনও কোটা রাখা হয়নি। আমরা সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না, মূলধারায় মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ চাই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যুগের পর যুগ ধরে বাংলাদেশে হিজড়া জনগোষ্ঠী, আদিবাসী, হরিজনসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিজ দেশেই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। পৈত্রিক সম্পত্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। সামাজিক বঞ্চনা একসময় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে লাশ দাফন করতেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনও হয়নি। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিশ্চিত হয়নি, ফলে আমাদের “পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমি এই শব্দটিকে সমর্থন করিনা। আমরা পিছিয়ে পড়া নই, বরং আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে ‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন আনোয়ারা ইসলাম রানী। সে সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ২৩ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। এবারও প্রচার-প্রচারণায় তিনি বেশ আলোচনায় ছিলেন।
সারাদেশ: শত বিঘা জমিতে বোরো আবাদের অনিশ্চয়তা