image

কুষ্টিয়ায় বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বাইকের ধাক্কায় দুই কিশোরের মৃত্যু

প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় প্রাইভেট পড়ে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুই কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে মোটরসাইকেল আরোহী অন্য এক কিশোর। শনিবার,( ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী গ্রামের হাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান, দৌলতপুর থানার ওসি আলি মর্তুজা।

নিহতরা হলো- উপজেলার চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের হেকমত আলীর ছেলে রহমত আলী (১৪) এবং একই এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে সাহাবী (১৪)। তারা দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। গুরুতর আহত সাইফ আলী (১৪) একই এলাকার জিয়ার আলীর ছেলে। সে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দৌলতপুর থেকে তিন বন্ধু প্রাইভেট পড়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকে সাইট দিতে গিয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়।

এতে মোটরসাইকেল আরোহীদের একজন ছিটকে রাস্তার উল্টো দিকে চলে যায়। এছাড়া চালক ও অন্য আরোহী খুঁটির সঙ্গে মাথায় আঘাত পায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হোসেন ইমাম বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তিন কিশোরকে জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য শিশুর অবস্থায় আশঙ্কাজনক। নিহতদের হেড ইনজুরি ছিল।

দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. হারুনার রশিদ বলেন, ‘শিক্ষক হিসেবে আমার কাছে সন্তান হারানোর বেদনার মতো। খবর শুনে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে যাই। কোমলমতি দুই বাচ্চার এভাবে অপমৃত্যু মেনে নেয়ার মতো নয়।’

তিনি বলেন, সম্প্রতি স্কুলগামী বাচ্চারা মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুলের পক্ষ থেকে বারবার অভিভাবকদের সচেতন করার চেষ্টা করা হয়। ‘প্রশাসনকেও বলছি, এগুলো একটু নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, কিন্তু দুঃখের বিষয় কোনো সুফল পাচ্ছি না।

অন্তত আমার বিদ্যালয় চত্বরে কোনো শিক্ষার্থীকে বাইক নিয়ে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। তবে এতে কখনো কখনো আমাকে নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এ বিষয়ে জানতে মোটরসাইকেল চালক কিশোর রহমত আলীর বাবা হেকমত আলীর মোবাইল ফোনে কল হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি