গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে নিখোঁজের ২০ দিন পর তিন বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক করা হয় শিশুটির মাকে, যিনি বন্ধুর প্ররোচনায় মেয়েকে ‘শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন’ বলে দাবি পুলিশের। শনিবার,( ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) বিকেলে উপজেলার গোবরা মধ্যপাড়ার একটি ঘরের তালা ভেঙে ট্রাঙ্কের ভেতর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান গোপালগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু। নিহত মোছা. ফারিয়া ওই এলাকার কাতার প্রবাসী রুবেল সেখের মেয়ে। আটকের নাম সেতু বেগম। আটককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিশুটির মায়ের স্বীকারোক্তি পেয়ে ঘরের দরজার তালা ভেঙে শিশুটির গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শিশুর লাশ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ফারিয়ার নানি পারভিন আক্তার বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে রুবেল সেখের সঙ্গে আমার মেয়ে সেতুর বিয়ে হয়। ফারিয়া তাদের একমাত্র সন্তান। রুবেল কাতারে থাকায় ফারিয়াকে নিয়ে গোবরা মধ্যপাড়ায় থাকত সেতু। ‘এরমধ্যে টিকটকের মাধ্যমে সেতুর সঙ্গে ফরিদপুর জেলার হাট কৃষ্ণপুর গ্রামের মিরাজের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তারা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তারা একসঙ্গে ঘর বাধার সিদ্ধান্ত নেন।
‘পালিয়ে যাওয়ার আগে বন্ধুর প্ররোচনায় সেতু তার মেয়েকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনার সময় বঁটি হাতে এ কাজে প্ররোচনা দেন মিরাজ। পরে মেয়ের লাশ ট্রাঙ্গে রেখে ঘরে তালা মেরে মিরাজের সঙ্গে পালিয়ে যায় সেতু।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনার ১৯ দিন পর গত শুক্রবার ওই যুবক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের তালমায় সেতুকে ফেলে পালিয়ে যান। পরে সেতু মোবাইল ফোনে তার মাকে ঘটনার বিস্তারিত জানান। খবর পেয়ে এদিন দুপুরে শিশুটির লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি তার মাকে আটক করা হয় বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।