চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার ড. মো. জিয়া উদ্দীন বলেছেন, ‘জনগণকে আমরা একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিতে চাই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের নির্বাচনকে আমরা সুষ্ঠু সুন্দর অবাধ ও নিরপেক্ষ করে তুলবো।’ গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের উদ্যেগে আয়োজিত বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচনী কেন্দ্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আপনারাই। সম্পূর্ণ নীতিমালা প্রতিপালন করে সহকর্মীদের সাথে সমন্বয় করে ক্যাম্পের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। আপনাদের আসল কৃতিত্ব হচ্ছে ভোট গণনা সম্পন্ন করে সুষ্ঠুভাবে রেজাল্টসহ ভোট তুলে আনা।
প্রিজাইডিং অফিসার কেন্দ্রের কার্যকরী ব্যক্তি উল্লেখ করে এসময় তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রে দুইভাবে বিশৃঙ্খলা হয়। একটি বাইরে থেকে অপরটি ভেতর থেকে। বাইরের দায়িত্ব আমাদের। ভেতরের দায়িত্ব প্রিজাইডিং অফিসারদের। ভেতর থেকে সমস্যা হলে আমাদের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। এটি মিস ম্যানেজমেন্টের জন্য হয়। তাই আন্তরিকভাবে ম্যানেজারের ভূমিকা পালন করতে হবে। সকল ধরনের ক্ষমতা আপনাদের রয়েছে।’
বিগত দিনের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, এবারের পরিবেশ ভিন্ন ধরণের। নির্বাচনী সহিংসতা ঘটেনি। এর ক্রেডিট জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর। তাদের সংযম দেখতে পেয়েছি। একটু দায়িত্বশীল হয়ে বুদ্ধিমত্তা খাটালেই হবে। আশা করি আমরা সফল হবো।
এডহক ৪৮ এডি রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো.সালাহ উদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করেছে। এছাড়া শীতবস্ত্র বিতরণসহ সমাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আসন্ন নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
এতে আরও বক্তব্য রাখেন, পদাতিক ৮ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর সাকিব ইশরাক অপূর্ব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) নোমান আহমদ, ক্যাপ্টেন মাহমুদ হাসান জাহিন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার হেদায়েত উল্লাহ, তামজীদ রহমান, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তনুশ্রী গোস্বামী ও অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান।
সভায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অতিথিরা। এইদিন ভোটগ্রহণের জন্য ৯১ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪৩৭জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ৮৪৪ জন পোলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে নির্বাচন কমিশন।