কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় জনপদ বদরখালীতে সরকারি টোল পয়েন্ট দখলে নিয়ে পাশের নদীতে অবৈধ ডকইয়ার্ড তৈরির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগ লাগিয়ে কতিপয় একটি দখলবাজ চক্র বদরখালী করিয়ারদ্বিয়া ফেরিঘাট নামক সরকারি টোল পয়েন্টটি দখলে নিয়ে গত শুক্রবার সকাল থেকে সেখানে অবৈধ স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ঘাট পারাপাররত লোকজন অভিযোগ করে জানান, সরকারি এই টোল পয়েন্ট দিয়ে নদী পারাপার করার সময় এমনিতে জনগণকে মাশুল দিতে হয়। সেখানে নতুন করে অবৈধ ডকইয়ার্ড তৈরির মাধ্যমে অভিযুক্ত চক্রটি পণ্যবাহী নৌযান এবং নদী পারাপাররত সুফলভোগী জনগণকে জিম্মি করে ব্যক্তিগত পর্যায়ে টোল আদায়ের জন্য এই অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের নেজারত শাখা সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কর্তৃক আন্তঃউপজেলা ফেরিঘাট/ লঞ্চঘাট ইজারা কার্যক্রমের আওতায় ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য (একবছর) মেয়াদে বদরখালী করিয়ারদ্বিয়া ফেরিঘাট সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পেয়েছেন বদরখালী মাতারবাড়িপাড়ার কবির আহমদের ছেলে দিদারুল ইসলাম মজিদ। ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল তারিখে জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রুবাইয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডাককারীকে ফেরিঘাটের রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্ব দেয়া হয়।
ইজারাদার দিদারুল ইসলাম মজিদ বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে ফেরিঘাটটি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে ইজারা গ্রহনের পর ইতোমধ্যে দশ মাস সময় অতিবাহিত হয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী আরও দুই মাস টোল পয়েন্টের মেয়াদ আমাদের অনুকূলে রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি ডাক অনুযায়ী রাজস্ব দেয়ার পরও এলাকাবাসীর অনুরোধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোককে আরও বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে। তারা টাকা গ্রহণের কাগজও দিয়েছে। এখন দেখছি, যারা সরকারি ডাকের বাইরে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে, তারা জোরপূর্বক টোল পয়েন্ট দখলে নিয়ে পাশের নদীতে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে।
ইজারাদার দিদারুল ইসলাম জানান, টোল পয়েন্ট দখলে নিয়ে স্থাপনা তৈরির এ ঘটনাটি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বদরখালী করিয়ারদ্বিয়া ফেরিঘাটের টোল পয়েন্ট দখলে নিয়ে অবৈধ ডকইয়ার্ড তৈরির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বদরখালী উত্তর নতুনঘোনা এলাকার কামাল হোছাইন এবং তার ছেলেদের নেতৃত্বে নুরুল কবির, আবুল হাশেম, হারুনর রশিদ, জিয়াবুল হোসেন, মোহাম্মদ আলীসহ একটি চক্র।
জানতে চাইলে দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত কামাল হোছাইন বলেন, ফেরিঘাটের মাথাখিলা জায়গা গুলো আমাদের বেশকটি পরিবারের রেকর্ডীয় সম্পত্তি। মূলত আমরা টোল পয়েন্টের বাইরে নদীতে পড়ে যাওয়া ওই মাথাখিলা জায়গায় স্থাপনা করছি। এটা তৈরির মাধ্যমে এলাকার অনেকের রোজগারের ব্যবস্থা হবে।
এবিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, ফেরিঘাটের টোল পয়েন্ট দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি দেখার জন্য স্থানীয় বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেনকে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপায়ন দেব বলেন, ইউএনও স্যার বিষয়টি জানানোর পরপর শুক্রবার সকালে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ইউনিয়ন ভূমি তহসিলদারকে পাঠিয়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরির কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তারপরও জড়িতরা যদি সেখানে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করার চেষ্টা করেন তাহলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।