image
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম

দিনাজপুর-৬ আসন

বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

চিত্ত ঘোষ, নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

দিনাজপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনটির এলাকা যেমন বড় তেমনি ভোটারের সংখ্যাও বেশি। বিরামপুর-হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট- এ চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এর ৪টি উপজেলার মধ্যে ৩টি উপজেলাই ভারতের সীমান্ত পরিবেষ্টিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। গেল ফেব্রুয়ারি বিরামপুরে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য দেয়ার পর হতে দিনাজপুরের ৬টি আসনেরই বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

দিনাজপুর-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৫ জনই দল মনোনীত। একজন মাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন (অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন) (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মো. রেজাউল হক (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদে-এর মো. নূর আলম সিদ্দিক (হাতপাখা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মো. আব্দুল হাকিম (মই) এবং স্বতন্ত্র মো. আব্দুল্লাহ (ফুটবল)।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬ জন, নারী ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫৯৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৯৯ টি। বিরামপুর উপজেলার মোট ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৭ হাজার ৮৪৭ জন, নারী ৭৮ হাজার ৮৭৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৫ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৬২টি। নবাবগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩ হাজার ৪৩৪ জন, নারী ১ লাখ ২ হাজার ২৫৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৭৩টি। হাকিমপুর উপজেলায় মোট ভোটার ৮৩ হাজার ৩০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪১ হাজার ২৮৪ জন, নারী ৪২ হাজার ১২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ২৮ টি। ঘোড়াঘাট উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ১১ হাজার ৯৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৫ হাজার ৪৮৮ জন, নারী ৫৬ হাজার ৪৮৪ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৩৬ টি।

বিগত ৪টি নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যান হচ্ছে, এই আসনে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী আজিজুর রহমান চৌধুরী ৪৩ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তার নিকটতম বাকশালের প্রার্থী আব্দুস সালাম আমান পান ৩৭ হাজার ২৬৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান ছিল ৬ হাজার ৭২২ ভোট। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আতিউর রহমান ৩৫ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু ১৯ হাজার ৫৪০ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে ছিলেন।

১৯৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিতর্কিত হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু ৭৫ হাজার ২৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আতিউর রহমান পান ৬২ হাজার ৪৯৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান ছিল ১২ হাজার ৭৭৩ ভোট। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আজিজুর রহমান চৌধুরী ৩৩ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং জাতীয় পার্টি প্রার্থী মো. মনসের আলী সরকার ৩২ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে ছিলেন।

২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি-জামায়াত জোট প্রার্থী আজিজুর রহমান চৌধুরী ১ লাখ ১০ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু পান ৮৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। ভোটের ব্যবধান ছিল ২১ হাজার ৬৫৫ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যক্ষ আতিউর রহমান ৩২ হাজার ৫৪৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী মো. মনসের আলী সরকার ২৮ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজিজুল হক চৌধুরী ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম জামায়াত প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম পান ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৫২ ভোট। ভোটের ব্যবধান ছিল ৮৫৮ ভোট। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. দেলওয়ার হোসেন ৭৫ হাজার ৭৪০ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন।

বিগত ৪টি জাতীয় সংসদ ( ১৯৯১ পঞ্চম, ১৯৯৬, ১২ জুন সপ্তম, ২০০১ অষ্টম ও ২০০৮ নবম) নির্বাচনে এ আসন হতে দুইবার আওয়ামীলীগ প্রার্থী সপ্তম সংসদ নির্বাচনে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু ও নবম সংসদ নির্বাচনে আজিজুল হক চৌধুরী বিজয়ী হন। পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী আজিজুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হন এবং অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে একই ব্যক্তি আজিজুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হন। আলোচিত ৪টি নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী জয়লাভ করেনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুরের ৬টি আসনের মধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থী বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন (অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন) হেভিওয়েট প্রার্থী। তিনি বিএনপি’র সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই কারণে জিয়া পরিবারের সঙ্গে অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিএনপি’র হাই কমান্ড হতে ডা. জাহিদের পক্ষে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিরামপুর নবাবগঞ্জ উপজেলার বিএনপির নোতা-কর্মী ও সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গেল শনিবার দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিরামপুরে বিশাল জনসমাবেশে যোগদান করে যেমন খুশি হয়েছেন, তেমনি সর্বস্তরের নেতা-কর্মী সমর্থকর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি