image
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) : ৩২নং প্রকল্পের কাজ -সংবাদ

জগন্নাথপুরে টাকার অভাবে থমকে গেছে বাঁধের কাজ, চিন্তায় কৃষক

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় নলুয়ার হাওরসহ ১২টি হাওর ও নন হাওরে উৎপাদিত আগাম বোরো ফসল অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে ৩৭টি পিআইসি প্রকল্পের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয় ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

বর্তমানে টাকার অভাবে রীতিমতো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বাঁধের কাজ। এ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রকল্পের বেশিরভাগ প্রায় কাজ হয়েছে। কোন কোন প্রকল্পের মাটিকাটার কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। আবার কোন কোন প্রকল্পের কাজ সন্তোষজনক নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রথম বিল দিয়েই অধিকাংশ কাজ আদায় করে নিয়েছেন।

এদিকে কাজ চলমান রাখতে প্রাণপন চেষ্টা করছেন পিআইসিরা। তাদের মধ্যে অনেকে ধারদেনা ও সুদে ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বিল পেলে এসব ঋনের টাকা পরিশোধ করবেন। যদিও এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় বিল পাওয়ার নামই নেই। এমতাবস্থায় টাকার অভাবে কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাত্র সাড়ে ৭ ভাগ বিল প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। এতে নারাজ হয়েছেন পিআইসিরা।

গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নলুয়ার হাওরের পশ্চিমপ্রান্ত ভূরাখালি, বেতাউকা ও বাউধরণ গ্রাম এলাকায় অবস্থিত পিআইসি ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩ ও ৩২ নং প্রকল্পে ধীরগতিতে কাজ চলছে। দ্বিতীয় বিল না পাওয়ায় পিআইসিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ৫নং পিআইসি কমিটির সভাপতি রিতি মিয়া, ৬নং প্রকল্পের পক্ষে সাবেক ইউপি সদস্য আহমদ আলী, ৭নং প্রকল্পের পক্ষে সাবেক ইউপি সদস্য রণধীর কান্তি দাস রান্টু, ১১নং প্রকল্পের পক্ষে ইউপি সদস্য সুজাত মিয়ার ভাই, ১২নং প্রকল্পের পক্ষে সাবেক ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া, ১৩নং প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য মফিজুর রহমান জানান, টাকার অভাবে আমরা অনেক ধারদেনা ও ঋণী হয়ে গেছি। কর্তৃপক্ষ মাত্র সাড়ে ৭ ভাগ বিল প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। তাতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে না। তবুও কোনো রকমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বিল না পেলে কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তবে ৩২নং পিআইসি কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন ও সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম জাবেদ জানান, আমাদের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় বিলের খবর নেই। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রহণযোগ্য পরিমাণে বিল প্রদানে কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। এ সময় হাওরে দেখা হয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জগন্নাথপুর উপজেলা কর্মকর্তা শেখ ফরিদ এর সঙ্গে। তিনি পিআইসিদের হাহাকার দেখেন এবং ২/১ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বিল প্রদানে আশ্বাস প্রদান করেন।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন, জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল জানান, হাওরে মাটি সংকট ও দ্বিতীয় বিল প্রদান না করায় বিপাকে পড়েছেন পিআইসিরা। তবে টাকার অভাবে যেন কাজ বন্ধ না হয়। এ বিষয় কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি