image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

জামালপুর-১ আসনে বিএনপি-জামায়াত লড়াইয়ে রপয হাড্ডাহাড্ডি

প্রতিনিধি, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে পাঁচটি দল। বিএনপিকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে কাজ করছে গণঅধিকার পরিষদ, নিজ প্রতীকেই লড়ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। শক্ত অবস্থানে আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সাংসদ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন জামাত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী। তবে ২৪-এর অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেওয়ানগঞ্জ বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর ভুল ও নিজ দলীয় সাংগঠনিক কৌশলকে কাজে লাগিয়ে এ আসনটিতে এবার বিএনপিকে টেক্কা দিয়ে জয় লাভের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

স্বাধীনতার পর দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ আসনে সবচেয়ে বেশি জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালে এই আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর ২০০৯-২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী শাসনামল থাকলেও সাবেক সাংসদ মিল্লাতের জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়েনি। তবে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, টাকার বিনমিয়ে সালিশি সহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন; যা সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের দ্বারা কোনো নাগরিকের জানমালের ক্ষয়-ক্ষতি সাধন হয়নি। বিএনপির নেতাকর্মী দ্বারা নির্যাতিতরা গোপনে জামাতের পক্ষ নিয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই নিজেকে প্রকাশ করছেন না। তবে মাঝে মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মিটিং মিছিলগুলোতে উপস্থিত হন।

বিএনপির একজন কর্মী পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডে ভোট চাইতে গেলে একজন নারী ভোটর বলেন, আমরা মিল্লাত ভাইয়ের লোক তবে ভোট দিলে জমি দখল করতে আসবেনা তো? ভোটারের এই কথোপকথন ভিডিও ক্লিপসটি ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জুলুমের শিকার হওয়া ব্যাক্তিরা ও একাধিক ব্যবসায়ী সহসাধারণ মানুষের ভাষ্য, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জনপ্রিয় ব্যাক্তি, উন্নয়নের স্বার্থে তাকে দরকার। তাকে ভোটাররা ভোট দিতে চায়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তার নেতাকর্মীদের আচরণ ভোটারদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাই মিল্লাতের কিছু ভোট কমেছে। তবে জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনী মাঠে মিল্লাত এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের ভোট বেড়েছে বহুসংখ্যক।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুদ হাবীব পলীন বলেন, সাবেক সাংসদ এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত তার উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তিনি আবার নির্বাচন করছেন, ভোটাররা তাকে ভোট দিতে অধীর অপেক্ষায় আছেন। এ আসনে বিএনপির জয় নিশ্চিত বলেও জানান।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা জামাতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো. ইসমাইল হোসেল বলেন, জামাত ২৫ বছর জোটে ছিল, ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের নির্যাতের শিকার। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের অপরিসীম ভূমিকা। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু যে পথে গেছে দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ আসনও সে পথেই যাবে। তিনি আরও বলেন, ত্রিশ হাজার প্লাস ভোট পেয়ে এ আসনে জয়লাভ করবে জামায়াতে ইসলামী।

আসনটিতে (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) জয়ের ব্যাপারে বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী উভয়ই শতভাগ বিজয়ের নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী বলছেন, জামায়াতের নীতি আদর্শকে দেশের মানুষ ভালোবাসে। জামায়াতকে ভোট দিতে সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছাস বইছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ইনশাআল্লাহ এ আসনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয় লাভ করবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি