ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালীর-৩, বেগমগঞ্জ সংসদীয় আসনে ৭ জন প্রার্থীর শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বর্তমানে মুখর হয়ে উঠেছে পাড়া মহলাসহ অলিগলি রাজপথ। মোট ৭ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন। এখানে মোট ভোটকেন্দ্র ১৬৬ টির মধ্যে ৬১ টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে, ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে তাদের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলে দলে ভাগ হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্র ভিত্তিক উঠান বৈঠক, সমাবেশ, মিছিলসহ লিফলেট নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা ও প্রচার-প্রচারণা করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও লিফলেট হাতে নিয়ে ভোটাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করছেন। নোয়াখালী-৩, (বেগমগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলু, জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সাধারন সম্পাদক মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিনসহ মোট ৭ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন।
কয়েকজন ভোটার ও এলাকাবাসী জানান, আওয়ামী লীগ এর অংশগ্রহণ বিহীন এ নির্বাচনে বিএনপি অধ্যুষিত বেগমগঞ্জে নানা কারনে এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আওয়ামী লীগ এবং সাধারণ ভোটারদের তাদের পক্ষে টেনে ভালো ফলাফলের আশায় বিভিন্ন কৌশলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।
বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনী শহর নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৩, বেগমগঞ্জ উপজেলার এ আসনে এবারও ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলু। এখানে বিএনপি ও বুলুর নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। আগের প্রতিটি নির্বাচনে বুলুর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। কিন্তু চব্বিশের ৫ অগাস্ট পরিবর্তিত পরিস্থিততে বুলুকে এবার মোকাবিলা করতে হবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. বোরহান উদ্দিনকে। জামায়াতেরও এখানে মাঠপর্যায়ে নিজস্ব ভোট রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. বোরহান উদ্দিনের ব্যক্তি ইমেজ ও স্থানীয়ভাবে আগে থেকেই ব্যাপক পরিচিতি থাকায় অনেকের কাছেই প্রার্থী হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এখানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজ মিয়াও লড়ছেন। আসনটিতে জাসদের এক সময় বেশ প্রভাব ছিল। ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালে জাসদের মোস্তাফিজুর রহমান টানা দুবার এখানে সংসদ সদস্য ছিলেন। একই সময় প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাসদের ফখরুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ ছাড়া বেগমগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন জাসদের অধিকাংশ চেয়ারম্যান ছিলেন। যার কারণে এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় জেএসডি প্রার্থী সিরাজ মিয়া পুরনো জাসদ, জেএসডিসহ আওয়ামী লীগের ভোটের প্রত্যাশায় বর্তমানে তিনিও মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন।
কয়েকজন সচেতন ভোটার জানান, শেষ মুহূর্তে এখানে ইসলামী দলগুলো এক হয়ে তাদের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের যে কোনো একজনকে সমর্থন করে ভোট প্রয়োগ করলে এ আসনে ভোটের হিসেব পাল্টে যাবে। নোয়াখালী-৩, (বেগমগঞ্জ)এ আসনে প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন মোট ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. বরকত উল্যাহ বুলু (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. নুর উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি মনোনীত প্রার্থী মো. সিরাজ মিয়া (তারা), খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মোরশেদ আলম (দেওয়াল ঘড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাজিব উদ দৌলা চৌধুরী (মোরগ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ আহমেদ (ফুটবল)। দু-চারটি বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া এ পর্যন্ত উপজেলার কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এই আসনে ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১১ হাজার ৭৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৬৯ হাজার ৮৮৬ জন, নারী ভোটার দুই লাখ ৪১ হাজার ৮৬৫ জন। এছাড় আটজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৬৬টি, এর মধ্যে ৬১টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, ভোটকক্ষ রয়েছে এক হাজার সাতটি। বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার বুলবুল আহম্মেদ জানান, ১৬৬টি এর মধ্যে ৬১টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনের নিরাপত্তায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালন করছে ফেনী ৪, বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোশারফ জানান, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যক্রম চলবে। সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থয়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে রোবাস্ট পেট্রোলিং, চেকপোস্ট স্থাপন ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রশাসন আরও জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
অর্থ-বাণিজ্য: ইন্টারনেট ব্যাংকিং ৪ দিন বন্ধ থাকবে
অর্থ-বাণিজ্য: উত্তরা ব্যাংকের নতুন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক
অর্থ-বাণিজ্য: সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি