নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পদ্মায় ভেসে উঠলো যুবকের লাশ

প্রতিনিধি, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ভেসে উঠলো লাশ। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাশের ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সেলিমপুর চর থেকে গতকাল রোববার রাতে লাশটি উদ্ধার করেছে স্থানীয় নৌ-পুলিশ। সোমবার সকালে নৌ-পুলিশ ও নিখোঁজ রেজাউলের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের বড় ভাই মোস্তফা শিকদার সোমবার জানান, রোববার (গতকাল) রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বড় ভাই হারুন শিকদারের কাছে মোবাইলে ফোন করে রেজাউলের খবর জানতে চান। তার নিখোঁজের বিষয়টি বললে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের নতুন হাট সেলিমপুর চরে লাশ পাওয়ার খবর জানায়। খবর পেয়ে রাতেই আমরা ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। লাশের পড়নে নীল রঙের জিন্সের প্যান্ট, ব্লু রঙের শার্ট পড়া ও পকেটে থাকা মানিব্যাগের কাগজপত্র দেখে আমার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করি। এছাড়া আমার ভাইয়ের লাশ প্রথম দেখেই চিনে ফেলেছি। লাশ আনতে ফরিদপুরের উদ্দেশে আমরা রওয়ানা হয়েছি।

ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি নাসিম আহম্মেদ জানান, রোববার (গতকাল) সন্ধ্যার দিকে পদ্মা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে এলাকার লোকজন চৌকিদারের মাধ্যমে রাত ৮টার দিকে আমাদের জানায়। খবর পেয়ে তাদের লাশটি আটকানোর কথা বলে রওয়ানা হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে চলে আসি। পরে পরিবারের লোকজন কয়েকদিন আগে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের লাশ বলে শনাক্ত করেন। কয়েকদিন আগে মৃত্যু হওয়ায় পচে অর্ধগলিত হওয়ায় লাশটি গতকাল রোববার বিকেলের দিকে ভেসে উঠে। রাতেই লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুরের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নিখোঁজ রেজাউল শিকদার (৩৫) গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বারপাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যানবাহন লোডের জন্য অপেক্ষমান রো রো (বড়) ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ নামক ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পদ্মা নদীতে লাফ দেন তিনি। তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপেক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছে। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে আসা ডুবুরি দল গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরদিন বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরি ঘাট এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। কোনো সন্ধান না পাওয়ায় গত বুধবার রাতে তারা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যান।

নিহতের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদার দাবি করেন, জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি।

দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, গত মঙ্গলবার বিকেলে যাত্রীর সঙ্গে জুয়াড়িদের ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রেজাউল শিকদার নদীতে লাফ দেন। তাকে ধরতে ওই যাত্রীও নদীতে লাফ দেন। এ সময় যাত্রীকে টেনে তুলতে পারলেও রেজাউলের সন্ধান পায়নি। যাত্রীটি ওই ফেরিতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া চলে যাওয়ায় তাকেও পায়নি। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গতকাল রোববার রাতে পদ্মায় লাশ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পরিবারকে জানানো হলে তারা গিয়ে রেজাউলের লাশ হিসেবে শনাক্ত করে।

তিনি আরও বলেন, নিহত রেজাউল শিকদারের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দ ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি