দীর্ঘদিন নীরব থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড অবশেষে মাঠে নামতে বাধ্য হলো গণমাধ্যমের ধারাবাহিক সংবাদে চাপের মুখে। প্রকাশ্যে দখল হয়ে যাওয়া পাউবোর জমি নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। এরই ধারাবাহিকতায় বটিয়াঘাটা উপজেলার সুন্দরমহল এলাকায় ২৯নং পোল্ডারের আওতাধীন পাউবোর জমিতে গড়ে ওঠা পাকা ভবনসহ সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। গত শনিবার সকাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুন্দরমহল বাজার এলাকায় নির্মিত পাকা ঘর, ভবন ও অন্যান্য স্থায়ী কাঠামো গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। বটিয়াঘাটায় পাউবোর জমির মৌখিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যেসব নির্মাণকাজ চলছিল, সেগুলোকেই এবার প্রশাসনের সরাসরি উপস্থিতিতে ভেঙে ফেলা হয়। পাউবো সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ সংশ্লিষ্ট দখলদারদের লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়। এসব জমিতে মৌখিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নির্মাণ অব্যাহত রাখায় বিষয়টি সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের শামিল এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। নোটিশে নির্ধারিত সাত দিনের সময়সীমা শেষ হলেও দখলদাররা স্থাপনা সরিয়ে না নেয়ায় শেষ পর্যন্ত উচ্ছেন অভিযানে নামতে বাধ্য হয প্রশাসন। বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. থান্দার কারুজ্জামান বলেন, ‘পোল্ডার ও বাঁধ রক্ষায় কোনো ধবনের অবৈধ দখল বরদাস্ত করা হবে না। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে এ ধারনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।’ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা করার কোনো সুযোগ নেই। উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন এই উদ্যোগ আরও আগে নেয়া হলে পোল্ডার এলাকায় দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হতো না। তারা দখলদারদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।