আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৬, (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে ১১৫টির মধ্যে ৩৩টি ভোট গ্রহন কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আত্রাই উপজেলায় ২৩টি এবং রাণীনগর উপজেলায় ১০টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আত্রাই উপজেলা নির্বাচন অফিস ও উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ৬০টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ২৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ২৩টির মধ্যে ১২টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৩৭টি কেন্দ্র।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাচন অফিস ও উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্র জানায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ৫৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ১০টির মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে চারটি ভোটকেন্দ্র। এছাড়া সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৪৫টি।
আত্রাই উপজেলা সহকারী রিটার্নিং ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম এবং রাণীনগর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং কোন অবস্থাতেই যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সে লক্ষে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনবসতিপূর্ণ ও ভোটকেন্দ্রের দূরত্বসহ নানাবিধ কারনে থানা-পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে যাচাই-বাছাই করে ভোট কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, আনসার বাহিনীসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, মোবাইল টিমসহ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বডিওর্ন ক্যামেরা বসানো থাকবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন এই কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. খবিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সময়ের বিএনপি ও চার দলীয় জোটের সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর (মোটরসাইকেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।