image

দীপু দাসের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ও বাড়ি করে দিবে সরকার

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

দ্বীপু দাসের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা ও বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ময়মনসিংহে গণপিটুনিতে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ও বাড়ি নির্মাণের এ উদ্যোগের কথা জানিয়ে মঙ্গলবার,(১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

সেখানে আরও বলা হয়, ‘কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে গণপিটুনির মাধ্যমে তাকে গাছে ঝুলিয়ে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা সে সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।’ এছাড়াও সেখানে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে গত ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে নিহত দীপু দাসের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দীপু দাসের পরিবারের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা জানান। দীপু দাস পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার পরিবারের বসবাসের জন্য একটি পাকাঘর নির্মাণসহ সার্বিক সুরক্ষার লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। এ সহায়তা তারাকান্দা উপজেলার ইউএনও’র তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ।

এ উদ্যোগের আওতায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি নগদ আর্থিক সহায়তা হিসেবে দীপু দাসের বাবা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হবে এবং তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হবে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, ‘দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো অজুহাত নেই এবং আমাদের সমাজে এর কোনো স্থান নেই। তার পরিবারকে সহায়তার যে প্রচেষ্টা সরকার করেছে তা একটি জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র নিশ্চয়ই সুবিচার নিশ্চিত করবে। সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে যেভাবে দীপু দাসকে হত্যা করা হয়েছে তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। ন্যায়বিচারই কেবল এই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে। আমরা একটি রাষ্ট্র ও সমাজ হিসেবে সব ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের মতপ্রকাশের শান্তিপূর্ণ অধিকারকে সম্মান করি। যতক্ষণ তা অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রেখে করা হয়। মতভেদ বা আপত্তির মুহূর্তেও কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার রাখে না।’

এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ১২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান থাকার কথা জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এ ঘটনায় যারা দায়ী তাদের সবাইকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» বাগেরহাট রাস্তায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের, আহত ৪

সম্প্রতি