নির্বাচনের মাঠে যেখানে ব্যানার, মাইক আর ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়, সেখানে হাবিবা বেগম একা হেঁটে নামেন মানুষের দোরগোড়ায়। পেছনে নেই বড় দলীয় শোভাযাত্রা, সামনে নেই বিলাসী প্রচারণা আছে শুধু কণ্ঠের সাহস আর চোখভরা জেদ। ফুটবল প্রতীকের মতোই তিনি ছুটছেন এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে, কখনো হাসি নিয়ে, কখনো কষ্ট চেপে। রাজশাহী-৩ আসনের এই লড়াইয়ে হাবিবার গল্প তাই শুধু ভোটের অঙ্ক নয়, এটা একজন নারীর একলা দাঁড়িয়ে থাকার গল্প অবহেলা, অপসারণ আর দারিদ্র্যের মাঝেও মাথা উঁচু করে মানুষের কাছে ন্যায়ের আবেদন। একলা পায়ে তিনি ছুটছেন ভোটের মাঠে। মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে নিজের কথা নিজেই বলছেন, নিজের লড়াই নিজেই তুলে ধরছেন। এই নির্বাচন তার কাছে শুধু ক্ষমতার হিসাব নয়; এটি সাহসের পরীক্ষা, অবহেলার জবাব আর সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নীরব অঙ্গীকার। রাজশাহী-৩ আসনের রাজনীতিতে তাই হাবিবার উপস্থিতি এক নারীর একলা সাহসের গল্প হয়ে উঠেছে।
আমি এমপি প্রার্থী হাবিবা। ভাইস চেয়ারম্যান দাঁড়ানু না দাদু আমি? ওই হাবিবা আমি। ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পরে তো চেয়ার কাইড়ে নিল। দয়া করে আমার ফুটবল মার্কায় ভোটটা দিয়েন।’ এভাবেই মানুষের কাছে ভোট চাইছেন রাজশাহী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগম। হাবিবার স্বামী মাসুদ রানা একসময় চায়ের দোকান দিতেন। দুই বছর থেকে দোকানটিও আর নেই। নিজের মার্কা ফুটবল প্রতীকের পক্ষে বড় ধরনের প্রচার চালানোর মতো আর্থিক সংগতি নেই এই নারীর। তাই একা ভোটারদের কাছে ছুটতে হচ্ছে তাকে। আসনটিতে মোট প্রার্থী ছয়জন হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির শফিকুল হক মিলন এবং জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদের মধ্যে। বড় দুই প্রার্থীর মধ্যে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন হাবিবা। ভোটের রাজনীতিতে তার যাত্রা অবশ্য এটিই প্রথম নয়। ঘাসিগ্রাম ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালে তৎকালীন এমপি আয়েন উদ্দিনের প্রার্থীকে টেক্কা দিয়ে ৪৩ হাজার ভোটে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ওই পদ থেকে তাকে অপসারণ করা হয়। হাবিবা উপজেলা কৃষক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু সম্পর্ক ভালো ছিল না স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের সঙ্গে। ফলে নিজ দল ক্ষমতায় থাকলেও তখন হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে। বলছেন, ‘যারা অপরাধ করেছে তারা পালিয়েছে। আমি অপরাধ করলে আপনাদের সামনে আসতে পারতাম না।’ হাবিবা বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগ করে মানুষের অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হোক।’