image
শরণখোলা : ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় গেছেন জেলে-মহাজনরা -সংবাদ

ভোট দিতে দুবলার শুঁটকি পল্লী ছেড়েছে ৮ সহস্রাধিক জেলে-মহাজন

প্রতিনিধি, শরণখোলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে দেশের বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের প্রায় ৮ সহস্রাধিক জেলে-মহাজন বাড়ি ফিরেছে। বরাবরের মতো এবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন তারা। মাছ ধরা বন্ধ রেখে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে তারা নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিন দিনে আট সহস্রাধিক জেলে ও মহাজন চর ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সাগর তীরবর্তী পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুর্গম দুবলার চরের আওতাধীন আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া, শেলারচরসহ চারটি চরে শোভা পাচ্ছে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানার। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চারিয়েছেন চরে অবস্থানকারী শুঁটকি উৎপাদনে নিয়োজিত জেলে-মহাজনরা।

বনবিভাগ ও শুঁটকি সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, দুবলার চরের আওতাধীন চারটি চরে দশ সহস্রাধিক জেলে-মহাজন অবস্থান নিয়ে বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে মাছ ধরে শুঁটকি উৎপাদন করছেন। এসব জেলেদের বেশির ভাগের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, তালা, বাগেরহাটের মোংলা, রামপাল এবং খুলনার ডুমুরিয়া, দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায়। জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন এলেই স্ব স্ব দলমতের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় মেতে ওঠেন তারা। আর ভোটের আগেই তারা ভোট প্রদানের জন্য চর ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় চলে যান। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের মহাজন ও রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মো. মোতাসিম ফরাজী, সাধারণ সম্পাদক জাকির শেখ, ডুমুরিয়ার মালো জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ বিশ্বাস ও আশাশুনির চাকলা জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুর রউফ মেম্বার বলেন, আমরা ভোট দেয়ার জন্য বাড়ি চলে এসেছি। বেশির ভাগ জেলে ভোট দিতে তাদের এলাকায় চলে গেছেন। ভোট শেষে আমরা সবাই আবার চরে ফিরে আসবো।

দুবলা চরের ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ মোবাইল ফোনে বলেন, বরাবরের মতো এবারও বঙ্গোপসাগরের দুর্গম দুবলারচরে লেগেছে সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। তিন দিনে দুবলার জেলে পল্লীর চারটি চরের দশ সহস্রাধিক জেলের মধ্যে আট হাজারেরও বেশি জেলে চর ছেড়ে ভোট দিতে চলে গেছেন। এর আগে তারা পোস্টার-ব্যানার টাঙানোর পাশাপাশি নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেছেন। এছাড়া কয়েকদিন আগে বেশ কয়েকজন প্রার্থীও শুঁটকি পল্লীগুলোতে এসে জনসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে গেছেন।

পূর্ব সুন্দরবন দুবলার আলোরকোল ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মো. তানভির হাসান ইমরান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শুঁটকি পল্লীতে একটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। ভোট দেয়ার জন্য জেলে-মহাজনরা তাদের এলাকায় চলে যাওয়ায় চরগুলো একেবারে জনশূন্য হয়ে পড়েছে। গত তিন দিনে আট সহস্রাধিক জেলে-মহাজন বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে দুবলারচর থেকে তাদের এলাকায় চলে গেছেন। জেলে-মহাজনদের এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» বাগেরহাটে নির্বাচনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা শহরতলী থেকে ককটেল উদ্ধার

সম্প্রতি